বন্যা ও পাহাড় ধসে মৃত্যু বেড়ে ৪৪, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও পাহাড় ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ এই সাত জেলার ৫৮টি উপজেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। সেখানে বন্যা ও পাহাড় ধসে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া সেখানে আহত হয়েছেন ২৪ জন।
চট্টগ্রামে বন্যা ও দেয়াল ধসের ঘটনায় ১১ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। বান্দরবানে পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন, আহত হয়েছেন আরও ২ জন। রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে বন্যায় একজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। জেলার ১৬টি উপজেলায় ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং পানিবন্দি রয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার।
এরপর কক্সবাজারের ১০টি উপজেলায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ৩৯ হাজার ৫০৬।
এ ছাড়া খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলায় ২৭ হাজার ২২০ জন, রাঙামাটির ৯ উপজেলায় ৩ হাজার ৫২৪ জন, বান্দরবানের ৭ উপজেলায় ৮ হাজার ৩৫০ জন, মৌলভীবাজারের ৪ উপজেলায় ৩৮ হাজার ১৭২ জন এবং হবিগঞ্জের ৩ উপজেলায় ২৮ হাজার ১৪০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকার ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে। এসব কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তবে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ এখনো নিজ নিজ বাড়িঘর ছেড়ে যেতে পারেননি। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের কথাও জানা গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ জুলাই দেশের ৬৪ জেলার জন্য ৬ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বন্যাকবলিত সাত জেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।
বরাদ্দের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৪০ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ৪৫০ মেট্রিক টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে প্রতিটি জেলায় ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মৌলভীবাজারে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জে ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ কর্মসূচি ও জরুরি সাড়াদান সমন্বয় অধিশাখার যুগ্মসচিব শেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, বন্যাকবলিত জেলাগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, এনজিও এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বরাদ্দও নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
