সারজিস-হাসনাতের গাড়ির সঙ্গে আসলে কী হয়েছিল?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলমকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বুধবার দুজনেই নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এ বিষয়ে পোস্ট করেন। তারা নিজেদের “শহীদ আবরার এবং আলিফের উত্তরসূরি” উল্লেখ করে লেখেন, “মারবা? পারবা না…মনে রেখো– শহীদেরা মরে না।”
এই পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সংগঠনের অন্য নেতারাও তা শেয়ার করেন। বুধবার রাতেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন।
বৃহস্পতিবার আরও একবার হামলার অভিযোগ
বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসনাত আবদুল্লাহকে আবারও গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে ফেসবুকে দাবি করেন মি. মাসউদ। পরে সারজিস আলমও জানান, কুমিল্লা থেকে ঢাকা ফেরার পথে হাসনাতের গাড়িতে পিছন থেকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ঢাকার ওয়ারী থানা সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার থেকে নামার পথে কাপ্তান বাজারের মুখে হাসনাতকে বহনকারী গাড়িটি একটি অন্য গাড়ির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে থানার ওসি ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।
পেছনের ঘটনা
গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ফারাঙ্গাতে। জানাজা শেষে তাকে সেখানে দাফন করা হয়। হাসনাত ও সারজিসসহ আন্দোলনের বেশ কয়েকজন নেতা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম থেকে তিনটি গাড়িতে করে দাফন-কাফন শেষে তারা ঢাকায় ফেরার পথে একাধিকবার দুর্ঘটনার শিকার হন।
সারজিস আলম জানান, লোহাগড়া থেকে ফেরার সময় চুনতি হাজী রাস্তার মাথায় একটি ট্রাক তাদের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। গাড়িটির সামনের বাম অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চালকের দ্রুত পদক্ষেপে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
পুলিশি তদন্ত ও সন্দেহ
দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক আহমেদ নেওয়াজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। লোহাগাড়া থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান জানান, সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা হয়েছে। তবে এটি সাধারণ দুর্ঘটনা নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা তদন্তাধীন।
সারজিস আলম জানান, প্রথমে তারা ঘটনাকে দুর্ঘটনা ভেবেছিলেন। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের সময় চালক সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে না পারায় সন্দেহ হয়। পরে জানা যায়, ট্রাকটির মালিক জুলাই অভ্যুত্থান মামলায় আসামি এবং বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
সারজিস আরও বলেন, “আমরা প্রায়ই রিকশা বা সিএনজিতে চলাফেরা করি। নিরাপত্তার স্বার্থে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।”
এদিকে, হাসনাত ও সারজিসের ‘হত্যাচেষ্টার দাবি’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে ‘নাটক’ বলে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ দুর্ঘটনাটিকে সাধারণ বলে মন্তব্য করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
