গাজার প্রস্তাবিত বাহিনীতে থাকতে চায় বাংলাদেশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজার জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স) গঠনের উদ্যোগে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বরাতে জানা গেছে, ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট আলিসন হুকার ও সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহের কথা তুলে ধরেন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা সহজীকরণ, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
আরো পড়ুন : টেকনাফ সীমান্তে আরাকান আর্মির গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভিসা বন্ড বাধ্যতামূলক করা দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বি-১ ভিসাকে ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতির অনুরোধ জানানো হয় বৈঠকে।
এর মধ্যেই গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশ অংশ নিতে আগ্রহী—সরকারের এমন ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আগ্রহের পেছনের ভিত্তি ও কাঠামো স্পষ্ট হলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবেই সরকারের এই অবস্থানকে দেখা যেতে পারে। তিনি জানান, বাংলাদেশ সাধারণত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেয় এবং যদি গাজার বাহিনী জাতিসংঘের আওতায় গঠিত হয়, তবে সেখানে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানে নেতিবাচক কিছু নেই।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, বৈঠকে খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের রপ্তানি ও দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। জবাবে আলিসন হুকার ভিসা বন্ড বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন এবং ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে অবস্থানের হার কমলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেন।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের সহযোগিতার প্রশংসাও করা হয় বিবৃতিতে।
তবে গাজার আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী কোন কাঠামোয় গঠিত হবে, এটি যুক্তরাষ্ট্র নাকি জাতিসংঘের অধীনে পরিচালিত হবে এবং বাহিনীর দায়িত্ব ও কার্যপরিধি কী হবে—এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
