বিএনপি নেতার মৃত্যু: অভিযানে থাকা সব সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার পর এক বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ওই অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ফার্মেসি থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলু (৫০) কে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টহল দল ওই ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ৯ মিমি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
অভিযান শেষে আটক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে রাত আনুমানিক ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরো পড়ুন : জ্বালানি সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ : সালেহউদ্দিন
আইএসপিআর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প কমান্ডারসহ অভিযানে অংশগ্রহণকারী সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কোনো সদস্য দোষী সাব্যস্ত হলে সেনা আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সোমবার রাত ১২টার দিকে জীবননগরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। ওই সময় ডাবলু একটি ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। পরে তাকে পাশের নিজস্ব কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন।
