×

জাতীয়

‘মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল না’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

‘মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল না’

ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে আনন্দ শোভাযাত্রা করার প্রয়োজন ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায়, চিরায়ত ধারায় পহেলা বৈশাখ পালিত হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার মঙ্গল শোভাযাত্রার পরিবর্তে আনন্দ শোভাযাত্রা নাম দেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিলো না। শোভাযাত্রাটি মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে চলে আসছিল। আমাদের কোনো এলার্জি নেই যে ‘মঙ্গল’ দিলে আমাদের ক্ষতি হবে বা ‘আনন্দ’ দিলে আমাদের লাভ হবে। আমরা আনন্দ ও মঙ্গলের এই বিতর্কটা অনর্থক মনে করি।’

বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপনের কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষ্যে এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সভা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘এবার যেন আরো বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে আমরা বর্ষবরণ করতে পারি, তা নিয়ে কথা বলেছি।’

এবারের আয়োজনটি কি নামে হবে, জানতে চাইলে চারুকলার ডিন বলেন, ‘এবারও আনন্দ শোভাযাত্রা নামেই আয়োজনের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। কেন আনন্দ শোভাযাত্রা, তা তো গত বছরই পরিষ্কার করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখে চারুকলা থেকে প্রথম যে শোভাযাত্রাটি হয়েছিল, তার নাম ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ই ছিল। সেটি পরে কী কারণে যেন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ হয়ে যায়। আমরা আগের ধারাবাহিকতা অব্যহত রাখছি।’

এর আগে সোমবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে বর্ষবরণের প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হয়। এবছর নববর্ষের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।

নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হবে। রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি হয়ে শোভাযাত্রাটি পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হবে বলে জানান চারুকলার ডিন।

গত শতকের আশির দশকে সামরিক শাসনের অর্গল ভাঙার আহ্বানে পহেলা বৈশাখে চারুকলা থেকে যে শোভাযাত্রা বের হয়েছিল; সেটিই পরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় রূপ নেয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পায় এ কর্মসূচি।

পহেলা বৈশাখের সকালে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হত মঙ্গল শোভাযাত্রা। নানা সাজে বিভিন্ন বয়সী মানুষ তাতে অংশ নিতেন।

কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতা করে আসছিল আওয়ামী লীগের সময় থেকেই। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই বিরোধিতা আরো জোরালো হয়।

সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নামকরণ হয় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘সংবিধান মানলে খালেদা জিয়া জেল থেকে বের হতে পারতেন না’

‘সংবিধান মানলে খালেদা জিয়া জেল থেকে বের হতে পারতেন না’

‘সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে চায়’

‘সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে চায়’

ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

জঙ্গল সলিমপুরে স্বস্তি, স্থায়ী ক্যাম্পের প্রস্তুতি

জঙ্গল সলিমপুরে স্বস্তি, স্থায়ী ক্যাম্পের প্রস্তুতি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App