জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ আমরা এক এক করে বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসসের
তারেক রহমান বলেন, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, সেই সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নে দল অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে কিছু রাজনৈতিক দল সংসদ ও সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তার ভাষায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের রায় দিয়েছে এবং বিএনপিকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
বিগত সময়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক যুগের বেশি সময় ধরে জনগণের বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। উন্নয়নের নামে প্রতারণা ও লুটপাট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বগুড়ার গাবতলীতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে এবং ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু ও কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের ঘোষণা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান দাবি করেন, সরকার গঠনের প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই ১২ লাখ কৃষকের সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে কিছু পক্ষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।
বিগত রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতেও বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা আবারও দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ২০১৬ সালে খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা দেন এবং ২০২৩ সালের ১২ জুলাই রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা ঘোষণা করা হয়। স্বৈরাচারী শাসনের সময় বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো দল সংস্কারের কথা বলেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৬ বছরে স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, যোগাযোগ ও শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে এবং উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে।
এর আগে সকালে তিনি গুলশান থেকে সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হন। পথে হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানায়। সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে তিনি বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি ই-বেইলবন্ড সিস্টেমের উদ্বোধন, আইনজীবী সমিতির ভবন উদ্বোধন, বগুড়া সিটি কর্পোরেশন ফলক উন্মোচন এবং হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
আইন ও বিচার ব্যবস্থার বিষয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় ছাড়া ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থাকে বিচারপ্রার্থীদের জন্য বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, এটি চালুর ফলে জামিন প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে পুরো বিচার ব্যবস্থা ডিজিটাল করা হবে এবং প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট, রিলিজ অর্ডার ও অনলাইন কেস ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিচার ব্যবস্থায় সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে এবং ন্যায়বিচারকে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
জেলখানায় অনেক বন্দি অর্থ ও আইনজীবীর অভাবে দীর্ঘদিন বিচার ছাড়াই আটক থাকেন—এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তিনি আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন বলেও জানান।
এদিন তিনি বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়ে ফলক উন্মোচন করেন। পাশাপাশি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমেও অংশ নেন।
গাবতলীতে তিনি ৯১১টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। এছাড়া খাল খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
