দুই কোটি লিটার সয়াবিন তেল আমদানির সিদ্ধান্ত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল আমদানির উদ্যোগ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। নিম্নআয়ের মানুষের কাছে ভর্তুকিমূল্যে সরবরাহের জন্য সয়াবিন তেল কেনায় ব্যয় হবে ২৮২ কোটি টাকার বেশি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই তেল কেনার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। কমিটি অনুমোদন দিলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য ২ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এই তেল কিনতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমাত্র কারিগরি ও আর্থিকভাবে গ্রহণযোগ্য দরদাতা হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার পিটি ট্রিনিটি চায়া এনার্জিকে নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রতি লিটার ১.১৫ ডলার দরে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এতে প্রতি লিটার তেলের গড় খরচ পড়ছে ১৭৮ টাকা ৫৬ পয়সা, যা স্থানীয় বাজারদরের তুলনায় প্রায় ১৬ টাকা ৪৪ পয়সা কম।
জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভোজ্যতেল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ কোটি লিটার। ইতোমধ্যে ১২ কোটি ১৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪ লিটার তেল কেনা হয়েছে।
এদিকে বৃহষ্পতিবারের বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সক্ষমতা বাড়াতে ১২২ কোটি ২৭ লাখ টাকায় যানবাহন কেনার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।
এর মধ্যে রয়েছে ৩টি জিপ, ১০০টি প্যাট্রোল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এ যানগুলো কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস প্রকল্পে ভূমি উন্নয়ন কাজে ভেরিয়েশন হিসেবে অতিরিক্ত ১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ের আর একটি প্রস্তাব করা হতে পারে। কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন দিলে এতে মোট চুক্তিমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১৯৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। প্রকল্প এলাকায় জলাশয় ও অসমতল ভূমির কারণে অতিরিক্ত কাজ যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া বৈঠকে শেরেবাংলানগর প্রশাসনিক এলাকায় ১২ তলা অফিস ভবন নির্মাণে ১০৮ কোটি ৭০ লাখ ৬৬ হাজার ৪৪৪ টাকার আর একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে। এই প্রকল্পের উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নেওয়া ১৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কুশলী নির্মাতা লিমিটেড সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ৬টি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল হিসেবে ৭১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা পরিশোধের প্রস্তাব আনা হতে পারে। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত উৎপাদনকালের এই বিল এখনো পরিশোধ করা হয়নি।
এছাড়া সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট ও ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারে বিদুৎ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় ঢাকা-ময়মনসিংহ অঞ্চলে একাধিক উপকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
