×

জাতীয়

ইসি চায় ৫০০ কোটি, সায় নেই প্রধানমন্ত্রীর

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

ইসি চায় ৫০০ কোটি, সায় নেই প্রধানমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

দেশের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং নির্বাচনি সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘নির্বাচনি ডাটাবেজের জন্য উপজেলা/থানা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প ফেরত দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ থেকে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল।

বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর সচিবালয়ের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠক থেকে প্রকল্পটি ফেরত দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

একনেকের কার্যপত্র অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৯২ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা ছিল।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় একটি আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, তিনটি জেলা নির্বাচন অফিস ভবন এবং ৪৫টি উপজেলা নির্বাচন অফিস ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব ছিল। পাশাপাশি মেট্রোপলিটন থানাগুলোর জন্য ১৬টি ফ্লোর স্পেস ক্রয়ের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মূলত ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর তৈরি হওয়া জাতীয় তথ্যভান্ডারকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করাই ছিল এ উদ্যোগের লক্ষ্য। পূর্ববর্তী প্রকল্পে অধিকাংশ উপজেলায় সার্ভার স্টেশন নির্মিত হলেও ভূমি জটিলতা ও নতুন উপজেলা গঠনের কারণে ৬৫টি এলাকায় স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। এই ঘাটতি পূরণই ছিল নতুন প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণের পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণ, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় আইটি সরঞ্জাম কেনার কথাও ছিল। এসব আধুনিক সার্ভার স্টেশন চালু হলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা আরও দ্রুত ও সহজ হবে বলে পরিকল্পনা কমিশন জানায়। এছাড়া নির্বাচনকালীন ব্যবহৃত ইভিএম, ব্যালট বাক্সসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য নিরাপদ অবকাঠামো গড়ে উঠবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সর্বশেষ রেট শিডিউল অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করায় প্রকল্পের খরচ কিছুটা বেড়েছে বলেও কার্যপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

কোন কোন এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব ছিল- গাজীপুর সদর, লৌহজং, সালথা, ডাসার, কালুখালী, টুঙ্গীপাড়া, তারাকান্দা, ধনবাড়ী, শাহজাহানপুর, নলডাঙ্গা, চৌহালী, ফুলছড়ি, বিরল, তালতলী, রাঙাবালি, ইন্দুরকানী, কয়রা, মুজিবনগর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, মেঘনা, তিতাস, মনোহরগঞ্জ, আশুগঞ্জ, বিজয়নগর, হাইমচর, মতলব উত্তর, কমলনগর, সেনবাগ, বেগমগঞ্জ, কবিরহাট, সোনাইমুড়ি, সুবর্ণচর, কর্ণফুলি, সন্দ্বীপ, পেকুয়া, ঈদগাঁও, গুইমারা, ওসমানীনগর, দক্ষিণ সুরমা, শায়েস্তাগঞ্জ, জুড়ী, শান্তিগঞ্জ, দিরাই, মধ্যনগরসহ বিভিন্ন উপজেলা এবং ঢাকার উত্তরা, কোতোয়ালী, লালবাগ, সূত্রাপুর, সবুজবাগ, মতিঝিল, টঙ্গীসহ একাধিক থানা।

জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের তালিকায় রয়েছে ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, বগুড়া, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, খুলনা, মেহেরপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা।

পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সচিব ড. কাইয়ুম আরা বেগম জানান, ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্প হওয়ায় এটি একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠলে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বাড়বে এবং নাগরিক সেবা আরও উন্নত হবে।

একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সেবার কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, একাধিক আলাদা ভবনের পরিবর্তে একটি সমন্বিত ভবন নির্মাণ করা উচিত, যেখানে সব সরকারি দপ্তর একসঙ্গে থাকবে। এতে জমির সাশ্রয় হবে এবং নাগরিকদের দপ্তরভিত্তিক ঘোরাঘুরি কমবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টারগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে না রেখে একটি নির্দিষ্ট ও নিরাপদ স্থানে একত্রে পরিচালনা করা উচিত, যাতে তথ্য ব্যবস্থাপনায় আরও সমন্বয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

কেন জ্যোতিষীকে বাদ দিলেন বিজয়?

কেন জ্যোতিষীকে বাদ দিলেন বিজয়?

হামে প্রতিটি ছোট্ট সোনামণির মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে

ব্যারিস্টার ফুয়াদ হামে প্রতিটি ছোট্ট সোনামণির মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে

কাল যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না

কাল যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না

ইসি চায় ৫০০ কোটি, সায় নেই প্রধানমন্ত্রীর

ইসি চায় ৫০০ কোটি, সায় নেই প্রধানমন্ত্রীর

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App