সংসদে আখতার
চার মাসে দেশকে আরো এক লাখ কোটি টাকার ঋণের জালে বেঁধেছে সরকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যে দেশকে আরও এক লাখ কোটি টাকার ঋণের জালে বেঁধে ফেলেছে বলে দাবি করেছেন রংপুর-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা। কিন্তু মাত্র চার মাসে তা বেড়ে ২৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে দেশকে আরও এক লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা বহন করতে হয়েছে।
৩০ লাখ কোটি টাকা পাচারে অর্থনীতি খালি পাত্রে পরিণত
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রকাশিত শ্বেতপত্রে ২৪০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এত বিপুল অর্থ পাচারের ফলে দেশের অর্থনীতি কার্যত একটি খালি পাত্রে পরিণত হয়েছে।
দুজন সংসদ সদস্য এখনও শপথ নিতে পারেননি
খেলাপি ঋণের প্রসঙ্গ টেনে আখতার হোসেন বলেন, দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ খেলাপি ঋণ হিসেবে আটকে রয়েছে। এমনকি এই সংসদের দুজন সদস্যও এখনও শপথ নিতে পারেননি, কারণ তারা খেলাপি ঋণ-সংক্রান্ত মামলায় আদালতে জটিলতার মধ্যে রয়েছেন।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। খেলাপি ঋণের এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি এখনও দুই অঙ্কের ঘরে
এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশের সামান্য বেশি। এমন পরিস্থিতিতে সরকার নতুন বাজেট ঘোষণা করেছে।
সরকার দাবি করছে, বাজেটের পর দ্রব্যমূল্য বাড়েনি। কিন্তু বাস্তবে বাজেট ঘোষণার আগেই গত তিন মাসে দুই দফা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে সব ধরনের পণ্যের দামে প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংস্কারে অনীহার কারণেই আইএমএফ ঋণ ছাড় করেনি
আখতার হোসেন বলেন, সরকার আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিতে চাইলেও প্রয়োজনীয় সংস্কারে আগ্রহ দেখায়নি। গত বসন্তকালীন বৈঠকে অর্থমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর করলেও আইএমএফ ঋণ ছাড় দেয়নি।
তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এনবিআরের নীতি ও ব্যবস্থাপনা পৃথক করার বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেটি কার্যকর না করে ল্যাপস (বাতিল) হতে দিয়েছে।
ব্যাংক খাতে চলছে অরাজকতা
ব্যাংকিং খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, আরও কয়েকটি ব্যাংকে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে।
আখতার হোসেনের দাবি, যেসব মালিকের আমলে লুটপাট ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়েছে, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮ ধারার কারণে তারাই আবার মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
তিনি বলেন, মাত্র সাড়ে সাত শতাংশ অর্থ ফেরত দিয়ে যদি আগের মালিকরা আবার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান, তাহলে এর পেছনের যুক্তি সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে।
ঘাটতি কম দেখানো জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল
প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে রাজস্ব আহারের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু এনবিআরকেই ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতের রেকর্ড অনুযায়ী এনবিআর ৪ লাখ কোটি টাকার রাজস্বও সংগ্রহ করতে পারেনি। সেখানে ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ বাস্তবসম্মত নয়।
তার ভাষ্য, অবাস্তব রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বাজেট ঘাটতি কম দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় কম হলে প্রকৃত ঘাটতি আরও বেড়ে যাবে এবং বাজেট বড় ধরনের ঘাটতির বাজেটে পরিণত হবে।
