জলবায়ু-সহনশীল ঢাকার নকশায় তরুণদের নতুন ভাবনা
প্রথম ও দ্বিতীয় চুয়েট, তৃতীয় বুয়েট
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার ভবিষ্যৎ নগরায়ণকে আরো পরিবেশবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘কার্বন কনশাস আরবান ডিজাইন আইডিয়া কম্পিটিশন-২০২৬’-এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া তরুণ স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলোতে উঠে এসেছে আগামী প্রজন্মের কল্পিত এক সবুজ, স্থিতিশীল ও জলবায়ু-সংবেদনশীল ঢাকার চিত্র।
বৃহস্পতিবার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে জাতিসংঘের প্রজেক্ট সার্ভিসেস দপ্তর (ইউএনওপিএস) এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এবং জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেড)-এর অর্থায়নে ইউএনওপিএস, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি), ইউএন-হ্যাবিট্যাট এবং রাজউকের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে টেকসই উপকরণের মাধ্যমে বিল্ট এনভায়রনমেন্টের রূপান্তর’ প্রকল্পের আওতায় প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হয়।
টেকসই নগর উন্নয়নের জন্য নতুন ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জলবায়ু-সচেতন নকশার মাধ্যমে গণপরিসরকে নতুনভাবে কল্পনা করার আহ্বান জানানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্বল্প-কার্বন উপকরণ ব্যবহার, পানি-সংবেদনশীল নগর পরিকল্পনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিসরকে সমন্বিত করে নানা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।

স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা, প্রকৌশল ও টেকসই উন্নয়ন খাতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ড ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জমা পড়া ৩৬টি ডিজাইন প্রস্তাবনা মূল্যায়ন করে। জুরিদের মতে, অংশগ্রহণকারী দলগুলো তাদের প্রস্তাবে সৃজনশীলতা, কারিগরি উৎকর্ষতা এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের সমন্বয় ঘটিয়েছে, যা স্বাস্থ্যকর, জনকেন্দ্রিক ও জলবায়ু-সহনশীল নগর পরিবেশ গঠনে সহায়ক হতে পারে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার অর্জন করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) টিম ‘বার্ন/ব্রেথ’। তাদের ‘দ্য রিসিডিং মেমব্রেন’ শীর্ষক প্রস্তাবনায় একটি অব্যবহৃত জলাশয়কে পরিবেশগতভাবে পুনরুদ্ধার করে সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিসরে রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। একই প্রকল্প ‘এক্সিলেন্স ইন প্রেজেন্টেশন অ্যাওয়ার্ড’ও অর্জন করেছে।
দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে চুয়েটের টিম ‘ইউনিট ফাইভ’। তাদের প্রস্তাবনার শিরোনাম ছিল ‘স্যাচুরেট: অ্যান আরবানস্কেপ দ্যাট রিটার্নস ওয়াটার টু আর্থ’। তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) টিম ‘ওয়েস্ট লাইন’। তাদের প্রস্তাবনা ছিল ‘মেমোরিজ অব বেঙ্গল: অ্যান ইকোলজি অব বিলংগিং ইন দ্য আরবান ফেব্রিক’।
মূল পুরস্কারের পাশাপাশি চারটি বিশেষ স্বীকৃতিও দেয়া হয়েছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির টিম ‘ভ্যানগার্ড আরবানিস্টস’ পেয়েছে ‘লো-কার্বন পাবলিক স্পেস অ্যাওয়ার্ড’। খুলনা ইউনিভার্সিটির টিম ‘ছায়া’ অর্জন করেছে ‘ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড ডিজাস্টার-রেডি পাবলিক স্পেস অ্যাওয়ার্ড’। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) টিম ‘অরণ্যক’ পেয়েছে ‘ইনক্লুসিভ অ্যান্ড অ্যাক্সেসিবল পাবলিক স্পেস অ্যাওয়ার্ড’। এছাড়া প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রকল্পটি ‘এক্সিলেন্স ইন প্রেজেন্টেশন’ স্বীকৃতিও লাভ করেছে। বিজয়ী দলগুলোর মধ্যে মোট ১০ লাখ টাকা পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
আয়োজকদের মতে, ভবিষ্যৎ স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ ও ডিজাইনারদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করে বাংলাদেশে স্বল্প-কার্বন ও সম্পদ-সাশ্রয়ী বিল্ট এনভায়রনমেন্ট গড়ে তোলার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ এই প্রতিযোগিতা। একইসঙ্গে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান, টেকসই নির্মাণ উপকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নকশার মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল নগর গড়ে তোলার ধারণাকে এগিয়ে নেয়াই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিজয়ী দল ও অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম এবং ইউএনওপিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জমা পড়া প্রস্তাবনাগুলোর উচ্চমানের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের টেকসই নগর উন্নয়ন কর্মসূচিতে অবদান রাখতে পারে-এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা। আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
