নতুন মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিক আজহার আলী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর রমনা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও এখনই কারামুক্তি মিলছে না সাংবাদিক আজহার আলীর। জামিননামার কাগজ কারাগারে পৌঁছানোর আগেই তাকে নতুন একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এদিন ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম।
গত বছরের ১০ অক্টোবর ঢাকায় ‘সন্দেহজনক ঘোরাঘুরির’ দায়ে গ্রেপ্তার হন মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী। তারই ‘সহযোগী’ হিসেবে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সাংবাদিক আজহার আলী সরকার। যদিও তখন আজহার আলীর পরিবারের অভিযোগ ছিলো সেদিন সন্ধ্যায় ডিবির একটি দল বনশ্রীর বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলো।
পরদিন রমনা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়, যে মামলাটি হয়েছিলো এনায়েত করিমকে ধরার পর।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিন্টো রোড এলাকায় প্রাডো গাড়িতে করে ‘সন্দেহজনকভাবে’ ঘোরাঘুরি করছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী। তাকে দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তার গাড়ি থামায়। কেন এখানে ঘোরাঘুরি করছেন, জানতে চাইলে তিনি পুলিশকে কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
পরে তার বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। মামলায় সম্পৃক্ত থাকায় তার সহযোগী এসএম গোলাম মোস্তফা আজাদ এবং জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মো. মামুনুর রশীদকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
সম্প্রতি এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান আজহার আলী। এরপর গত ১৮ জুন শাহবাগ থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ।
এ মামলাটি হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠান থেকে আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকী, সাংবাদিক পান্না, অধ্যাপক কার্জন ও আব্দুল্লাহীল কাইউমসহ ১৬ জনকে আটকের পর। গত ২৮ অগাস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মঞ্চ ৭১’ নামের এক সংগঠনের অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘মবের শিকার’ হওয়া এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ মামলায় সাংবাদিক আজহার আলীকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রশ্নে শুনানির দিন ছিল সোমবার।
এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। হুইল চেয়ারে করে তাকে এজলাসে তোলা হয়। শুনানির আগে তাকে এজলাসে বিচারকের সামনে রাখা হয়।
তাকে দেখে বিচারক সোহেল রানা বলেন, “আপনি তো সুস্থ ছিলেন। অসুস্থ হয়ে গেছেন নাকি?”
পরে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হয়।
পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরেন।
আজহার আলীর পক্ষে আইনজীবী মনসুর রিপন তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর বিষয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আজহার আলীর আরেক আইনজীবী শেখ অলিউজ্জামান উজ্জল বলেন, “রমনা থানার এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে রয়েছেন। সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান।
“জামিননামার কাগজ কারাগারে পৌঁছালে তাকে নতুন করে শাহবাগ থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো। কারামুক্ত হতে তাকে এ মামলায় জামিন পেতে হবে।”
