রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদ ছাড়ার গুঞ্জন, উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন, এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব ছাড়তে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের বিষয়ে ইতোমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া-সংক্রান্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে অধস্তন কর্মকর্তাদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে পারেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম আগে আলোচনায় থাকলেও বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী এক সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
তবে এ বিষয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এমন কোনো বিষয়ে তিনি অবগত নন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের নাম আলোচনায় আসবে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
আরো পড়ুন : এমপি নজরুলের আসন নিয়ে ইসির ব্যাখ্যা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সরকার, বিরোধী দল ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন এবং সংসদ ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। ওই পুরো সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্রনেতা ও জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হয়। এরপর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। এখন তাঁর সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর সেই আলোচনাকে আরো জোরালো করেছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের অতীত ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ছিল। তিনি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের উপদেষ্টা ছিলেন। সে সময় দুটি প্রতিষ্ঠানই এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, সম্ভাব্য উত্তরসূরি কিংবা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকার, বঙ্গভবন বা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
