পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শিগগিরই পদত্যাগ করছেন। সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র । যদিও এ বিষয়ে এখনো বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় ও ক্ষমতাসীন বিএনপির মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্রের দাবি, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কিছুটা সময় লাগলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতির নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ক্ষমতাসীন দলের আস্থাভাজন কাউকেই এ পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।
সরকারের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে পারে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ওই অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রয়েছে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য, তিনি ইতোমধ্যে ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের শিগগিরই দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর কিছুদিন বিশ্রামে থাকার পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ারও পরিকল্পনা থাকতে পারে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং তার সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা।
আরো পড়ুন : রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদ ছাড়ার গুঞ্জন, উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তনের মধ্যেও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তবে সেই সময় থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল ও আন্দোলনকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সাহাবুদ্দিন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, নির্বাচনের পর সুবিধাজনক সময়ে দায়িত্ব ছাড়তে চান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সরকার চাইলে দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব আসবে। একই সঙ্গে সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো নিজেদের মনোনীত প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ পাবে ক্ষমতাসীন বিএনপি। ফলে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
