১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আগামী এক দশকের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও আবাসিক এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির স্বার্থে পরিচালিত করা হয়েছিল। তাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনা দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এখন জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে নতুনভাবে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। ইতোমধ্যে সরকার সেই কাজ শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ বছরে দেশের জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা কী হবে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কাঠামো কেমন হবে, তার বিস্তারিত প্রস্তাব জাতীয় সংসদে দেওয়া হবে। সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর এর বাস্তবায়ন শুরু হবে।
আরও পড়ুন: হেফাজত আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি কিছু মানুষ এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। বিএনপি সরকার সংসদে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে সেটিও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। তবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা মানুষের শান্তি নষ্ট করা যাবে না।
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে জ্বালানি ও নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। বিনিয়োগকারীরা চান, তাদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘ্নে বন্দরে পৌঁছাবে এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালও যথাসময়ে দেশে আসবে। শিল্পকারখানা সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি।
চট্টগ্রামের শিল্পায়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আনোয়ারায় চীনকে একটি বড় জায়গা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে দেশটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সেখানে কয়েকশ মিল ও কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এর ফলে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
কৃষকদের জন্য সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ডের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বাঁশখালীর যেসব মানুষ লবণ চাষের সঙ্গে যুক্ত, তারাও এই কার্ডের আওতায় আসবেন। শুধু ধান, পাট, শাকসবজি কিংবা অন্যান্য ফসল উৎপাদনকারীরাই কৃষক কার্ড পাবেন- বিষয়টি এমন নয়। লবণচাষিরাও ইনশাআল্লাহ কৃষক কার্ড পাবেন।
লবণের দাম নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে লবণের একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্য লবণচাষিদের স্বাবলম্বী ও অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হতে সহায়তা করবে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে নির্ধারিত দামটি সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এতে লবণচাষিদের আগের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সমাবেশে বাঁশখালী উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে সারাদেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাঁশখালী এলাকার ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
