শিশুর আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগে কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
বাসায় তালা দেওয়া থাকায় পুলিশ তা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ছবি: সংগৃহীত
নাটোরে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আট বছর বয়সী এক শিশুর ডান হাতের আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের এক কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করে আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের বড় হরিশপুর পশ্চিম চেয়ারম্যানপাড়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। পরে রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। গুরুতর আহত শিশুটিকে নাটোর সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল নাটোরেই কর্মরত এবং সপরিবারে ভুক্তভোগী শিশুর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন। গত বুধবার রাতে ওই বাড়িতে একটি পারিবারিক পিকনিকের সময় কনস্টেবলের চার বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে শিশুটির ধাক্কাধাক্কি হয়। বিষয়টি সেদিনই পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল।
তবে পরদিন বৃহস্পতিবার দায়িত্ব শেষে বাসায় ফিরে ওই পুলিশ সদস্য শিশুটিকে জোর করে নিজের ঘরে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর শিশুটি ডান হাতের একটি বিচ্ছিন্ন আঙুল নিয়ে কান্না করতে করতে নিচে নেমে আসে। সে জানায়, খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে তরকারি কাটার হাঁসুয়া দিয়ে তার আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে। ব্যাংকে কর্মরত শিশুটির বাবা খবর পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ছেলেকে নাটোর সদর হাসপাতালে নেন।
আরও পড়ুন: ‘প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে তারেক রহমানের সরকার চূড়ান্ত প্রহসন করেছে’
নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুর রহমান জানান, ডান হাতের একটি আঙুলের অংশবিশেষ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল শিশুটির বিরুদ্ধে তাঁর মেয়েকে যৌন নিপীড়নের মৌখিক অভিযোগ তুলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় মেঝে ও খাটের পাটাতনে রক্তের দাগ এবং মেঝের এক পাশে বিচ্ছিন্ন আঙুলের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, শিশুদের সাধারণ একটি ধাক্কাধাক্কিকে কেন্দ্র করে তার ছেলেকে ঘরে আটকে নির্মমভাবে অঙ্গহানি করা হয়েছে। তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
নাটোরে শিশুটির ওপর যৌন নিপীড়নের কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে কি না—জানতে চাইলে সদর থানার ওসি জানান, শিশুটির মা-বাবা কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি, কেবল মৌখিকভাবে বলেছিলেন। তবে শিশুদের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বড়দের এমন নিষ্ঠুর প্রতিক্রিয়া ও অপরাধের বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
