মহাখালীতে কিশোরীর আত্মহত্যা
মাদক সেবন করিয়ে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মহাখালীতে ১৩ বছরের কিশোরী সিমির আত্মহত্যার ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ, জোর করে মাদক সেবন করিয়ে দিনের পর দিন তাকে ধর্ষণ, নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিমিদের বাসায় সাবলেট থাকা সাইদুর ও টুম্পা দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৫ জুলাই সিমির আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে সিমি, তার মা ও এক স্বজন বনানী থানায় গিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তবে পুলিশ তখন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। যদিও বনানী থানা পুলিশের বক্তব্য, সিমির মৃত্যুর আগে এমন অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি।
মহাখালীর একটি ভবনের ষষ্ঠ তলায় মায়ের সঙ্গে থাকত সিমি। গত এপ্রিল মাসে বাড়ির ম্যানেজারের মাধ্যমে দুই সন্তানসহ সাইদুর ও টুম্পা দম্পতি ওই বাসায় সাবলেট হিসেবে ওঠেন। তারা ১ মে বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সিমির আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন তার মা।
আরও পড়ুন: প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী দিপু মনি
সিমির মায়ের ভাষ্য, সাবলেট দেওয়ার পর থেকেই ওই দম্পতির বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় জানতে পারেন তিনি। তারা বাসা ছেড়ে যাওয়ার পর ঘর থেকে টাকা হারাতে থাকে। একপর্যায়ে স্বজনদের চাপের মুখে সিমি জানায়, তাকে ভয় দেখিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।
সিমির মা আরও জানান, মেয়েকে নিয়ে বনানী থানায় গেলে সে সেখানে বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলে এবং নির্যাতনের কথাও জানায়। পুলিশ একজন কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানানোর পর অভিযুক্তের ছবি দেখানো হয়। তখন তাকে পরদিন থানায় আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পরদিন ফোন করে জানতে চাইলে থানার পক্ষ থেকে যেতে নিষেধ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বনানী থানায় যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে মুঠোফোনে তারা জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে সিমির মৃত্যুর আগে থানায় এসে তার অভিযোগ জানানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: অচেনা শহরে হঠাৎ পরিচিত ডাক
এদিকে, বাসা ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে সাইদুর ও টুম্পা দম্পতির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই না করেই বাড়ির ম্যানেজার সাইদুরকে সাবলেট হিসেবে বাসা ভাড়া দিয়েছিলেন।
সিমির মৃত্যুর ঘটনায় করা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তদন্তের পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।
