অচেনা শহরে হঠাৎ পরিচিত ডাক
নাজমুল হাসান, ভোরের কাগজ
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
মগবাজার দিয়ে মৌচাকের দিকে হাঁটছিলাম এক সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে। ব্যস্ত নগরীর চেনা কোলাহল, যানবাহনের শব্দ আর মানুষের ছুটে চলার মাঝেই হঠাৎ পেছন থেকে কেউ আমার নাম নাজমুল বলে ডাকলেন।
আরও পড়ুন: নিম্নচাপের প্রভাব, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত
চমকে উঠলাম। ঢাকার রাস্তায় এভাবে নাম ধরে কেউ ডাকবেন- এটা খুব একটা স্বাভাবিক নয়। তাই এদিক-ওদিক তাকিয়ে খুঁজছিলাম, কে ডাকলেন।
পেছনে তাকাতেই চোখ আটকে গেল পরিচিত এক মুখে। আমারই এলাকার ভাই মিজানুর রহমান (টুরু)। মুহূর্তেই ব্যস্ত ঢাকার সেই অপরিচিত পরিবেশ যেন বদলে গেল। দূর শহরে হঠাৎ নিজের এলাকার কাউকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দটা সত্যিই অন্যরকম।
কাছে গিয়ে কুশল বিনিময়। এরপর শুরু হলো দীর্ঘ আলাপচারিতা। কথায় কথায় জানালেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। রাজধানীর ব্যস্ত রাস্তাগুলোই এখন তার প্রতিদিনের কর্মক্ষেত্র।
মগবাজার, মৌচাকসহ আশপাশের এলাকাগুলোতেই নিয়মিত রিকশা চালান। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, পরিচয় হয়, আবার কেউ কেউ চিরচেনা হয়েও থেকে যান অচেনা।

কথার ফাঁকে তিনি বললেন, এসব এলাকার মানুষজন বেশ সহজ-সরল। ব্যস্ততা আর জীবিকার তাগিদে সবাই ছুটে চললেও মানুষের আন্তরিকতার কমতি নেই। তার নিজের কথাতেও ছিল সেই সরলতার ছাপ। আর মুখে লেগে ছিল একটুকরো হাসি।
আমাকে হঠাৎ দেখে তিনি যেন নিজের এলাকার কাউকে নয়, আপনজনকেই ফিরে পেয়েছেন। কথার একপর্যায়ে তার চোখেমুখে আবেগের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠল। দূর শহরে দীর্ঘদিন কাটালেও নিজের এলাকার মানুষ, পরিচিত মুখ আর শেকড়ের টান যে কতটা গভীর- তার অনুভূতিই যেন প্রকাশ পেল সেই মুহূর্তে।
দীর্ঘ আলাপচারিতা শেষে আবার পথ চলার পালা। তিনি বললেন, ‘নাজমুল চল, কিছুদূর এগিয়ে দিই।’ এরপর তার রিকশায় উঠে বসলাম।
ব্যস্ত মগবাজারের রাস্তায় রিকশা এগিয়ে চলল। চারপাশে হাজারো মানুষ, শত শত গাড়ি- কিন্তু আমার কাছে সেই মুহূর্তে ঢাকাটা আর আগের মতো অপরিচিত মনে হচ্ছিল না।
আরও পড়ুন: মাতৃত্বকালীন মাসিক ভাতা পাবেন যারা, জানুন আবেদন পদ্ধতি
কারণ, এই বিশাল শহরের ভিড়ে হঠাৎ করেই খুঁজে পেয়েছিলাম নিজের এলাকার একজন মানুষকে।
জীবনের পথে এমন কিছু সাক্ষাৎ আসে, যা খুব অল্প সময়ের হলেও মনে দাগ কেটে যায়। মগবাজারের সেই মোড়ে আমার এলাকার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হওয়াটাও তেমনই এক ঘটনা।
ঢাকার ব্যস্ততা তাকে রিকশাচালক বানিয়েছে, জীবিকার প্রয়োজনে তাকে শেকড় থেকে দূরে রেখেছে। কিন্তু মুখের হাসি আর মানুষের প্রতি আন্তরিকতা দেখে মনে হলো- শহর বদলালেও মানুষের ভেতরের সরলতা আর শেকড়ের টান বদলায় না।
মগবাজারের সেই ব্যস্ত মোড়ে তাই সেদিন শুধু একজন রিকশাচালকের সঙ্গে দেখা হয়নি; দেখা হয়েছিল নিজের এলাকার একজন আপন মানুষের সঙ্গে। আর সেই হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়া মুহূর্তটুকুই হয়ে রইল ব্যস্ত নগরজীবনের এক উষ্ণ, মানবিক স্মৃতি।
