গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে যা বললেন ইসি সচিব
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
ফাইল ছবি
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের বিষয়ে স্পিকারের আনুষ্ঠানিক চিঠি পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্যপদ থাকা না থাকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, "জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি আমাদের আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছ থেকে আমরা এখনও কোনো চিঠি পাইনি। নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারের চিঠি ছাড়া নির্বাচন কমিশনের সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।"
সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানান সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, "মাঠপর্যায়ের কর্মীদের লেমিনেটেড কার্ডের বদলে প্রধান কার্যালয়ের মতো টেকসই প্লাস্টিক স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। রাজস্ব, উন্নয়ন, আউটসোর্সিং কিংবা দৈনিক ভিত্তিক—সব ক্যাটাগরির কর্মীদের জন্যই এই নতুন কার্ড প্রযোজ্য হবে।"
আরও পড়ুন: ‘অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম অনেক কম’
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসি সচিব জানান, কমিশন সভায় আলোচনার মাধ্যমে সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে পরবর্তী কমিশন সভার তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি; প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সভার দিনক্ষণ ঠিক করবেন।
এমপি পদ ও আইনি জটিলতা
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ দুপুরে আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের আগে নিয়মানুযায়ী স্পিকারকে জানানো হয়েছিল। এরপরই বহিষ্কৃত এই সংসদ সদস্যের পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হয়। কিন্তু দল কর্তৃক বহিষ্কৃত হলে সরাসরি সংসদ সদস্য পদ বাতিলের সুযোগ ৭০ অনুচ্ছেদে নেই।
এছাড়া, কোনো সংসদ সদস্য ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ন্যূনতম ২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং সাজা ভোগ শেষে পরবর্তী ৫ বছর অতিবাহিত না হলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে অযোগ্য ঘোষিত হন। অর্থাৎ, কেবল গ্রেপ্তার বা রিমান্ডে গেলেই পদ বাতিল হয় না—আদালতে অপরাধ চূড়ান্ত প্রমাণিত হয়ে দণ্ডাদেশ হতে হয়।
