×

জাতীয়

অপরাধের হটস্পটে শুরু হচ্ছে যৌথ অভিযান

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

অপরাধের হটস্পটে শুরু হচ্ছে যৌথ অভিযান

ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং, সশস্ত্র হামলা, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ নানা ধরনের অপরাধের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে নজরদারি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আদাবর ও ক্যান্টনমেন্ট-সংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোর একটি তালিকা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রের দাবি, এসব এলাকায় সক্রিয় গ্যাংয়ের পাশাপাশি তাদের অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই বড় পরিসরে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।

যেসব ঘটনা নজরে এসেছে

রাজধানীতে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এসেছে। ইসিবি চত্বর-সংলগ্ন এলাকায় নিউগিনি প্রপার্টিজ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুর এবং মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকায় জমি দখলের অভিযোগগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি বৃহত্তর অপরাধ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।

এসব ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ের অপরাধীদের পাশাপাশি তাদের পেছনে থাকা অর্থদাতা, পৃষ্ঠপোষক ও নির্দেশদাতাদের শনাক্তের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

যেসব এলাকা নজরদারিতে

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যালোচনায় ঢাকার কয়েকটি অঞ্চল বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার চাঁদ উদ্যান, নবীনগর হাউজিং, বসিলা, শ্যামলী হাউজিং ও জেনেভা ক্যাম্পকে নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় বিভিন্ন কিশোর গ্যাং ও অপরাধী চক্রের তৎপরতার তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

মিরপুর-পল্লবী অঞ্চলের মিরপুর-১, ২, ৬, ১০, ১১, ১৩ ও ১৪ নম্বর এলাকা, কালশী গোরস্থান লেন, বাউনিয়া বাঁধ ও বাইগারটেকও তালিকায় রয়েছে। এসব এলাকায় বিভিন্ন গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ইসিবি চত্বর ও ক্যান্টনমেন্ট-সংলগ্ন দক্ষিণ মানিকদী এলাকার কিছু অংশও সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে বিশেষ নজরে রয়েছে।

কিশোর গ্যাংয়ের পাশাপাশি নজরে পৃষ্ঠপোষকেরা

সাম্প্রতিক পরিকল্পনায় শুধু মাঠপর্যায়ের অপরাধীদের গ্রেপ্তার নয়, অপরাধচক্রের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্তের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, রাজধানীতে সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা ১৫৮টি এবং এসব গ্যাংয়ের সদস্য ১ হাজার ২১৯ জন। এসব চক্রের পেছনে প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে কার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ বা প্রমাণ রয়েছে, তা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিদেশে থাকা অপরাধীদের যোগাযোগও নজরে

গোয়েন্দা সংস্থার পর্যালোচনায় দেশের বাইরে অবস্থানরত কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধীর সঙ্গে দেশীয় অপরাধী চক্রের যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কল ও বিভিন্ন যোগাযোগ অ্যাপের মাধ্যমে দেশে থাকা সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর শুধু ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। অপরাধের অর্থের উৎস, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক কাঠামোও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

অভিযানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

তাৎক্ষণিক অভিযানের পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে অপরাধপ্রবণ এলাকায় টহল বাড়ানো এবং বডি ক্যামেরা ও সিসিটিভির ব্যবহার জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী পর্যায়ে সিসিটিভি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, ৯৯৯ সেবার সক্ষমতা বাড়ানো এবং ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট ইউনিট ও সাইবার-মাদক প্রতিরোধ সেল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে অপরাধপ্রবণ এলাকায় এআই-নির্ভর সিসিটিভি নজরদারি এবং থানার অপারেশন ও তদন্ত কার্যক্রম আলাদা করার পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে।

‘ক্লিন হার্ট’ নিয়ে আলোচনা

রাজধানীতে বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় ২০০২ সালের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর প্রসঙ্গও এসেছে। তবে বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে একই নামে বা একই কাঠামোয় কোনো অভিযান ঘোষণা করেছে—এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বরং সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রস্তুতিকে অপরাধপ্রবণ এলাকায় সমন্বিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর দীর্ঘমেয়াদি অপরাধ দমন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে এসব প্রস্তুতির বাস্তব প্রয়োগ শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

রাজধানীর অপরাধ দমনে এখন শুধু মাঠপর্যায়ের অপরাধীদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার নয়, তাদের পেছনে থাকা অর্থদাতা ও নির্দেশদাতাসহ পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পাকিস্তান এড়িয়ে চীনের আকাশপথে ভারত, সামনে যত চ্যালেঞ্জ

পাকিস্তান এড়িয়ে চীনের আকাশপথে ভারত, সামনে যত চ্যালেঞ্জ

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, শিক্ষক আটক

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, শিক্ষক আটক

রাড্ডা ক্লিনিকে হামলায় এমপি মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের তদন্ত চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাড্ডা ক্লিনিকে হামলায় এমপি মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের তদন্ত চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

র‍্যাগিংয়ে জড়িত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তি

র‍্যাগিংয়ে জড়িত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App