কৃষক কার্ড বিতরণে অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’: ডেপুটি স্পিকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কৃষক কার্ড ও সরকারি সহায়তা বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতি, বৈষম্য ও দলীয় প্রভাবের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের কাছে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। অনিয়মের ক্ষেত্রে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের ১ হাজার ১৭০ জন কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হয়। সরকারি কৃষি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এসব কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়েছে।
কায়সার কামাল বলেন, কৃষক কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির দলীয় পরিচয়, ধর্ম, বর্ণ বা অন্য কোনো পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া যাবে না। প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কার্ড দিতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জনগণের জন্য সরকার যে অনুদান ও সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দ করে, তা সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্ব। কার্ড বিতরণে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অতীতে কিছু ভুলত্রুটির কথা উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সেসব সমস্যা চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষক কার্ড বিতরণেও যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না ঘটে, শুরু থেকেই সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
দুর্গাপুর-কলমাকান্দা এলাকার জামদানি শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, এ অঞ্চলের জামদানি দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচিতি পেয়েছে। কোনো কোনো জামদানি শাড়ি দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কারিগরদের আর্থিক প্রণোদনা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলকে জামদানি শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
পাহাড়ি এলাকায় খাবার পানির সংকট ও বন্য হাতির উপদ্রব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেরপুর ও নেত্রকোনার পাহাড়ি অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে সমস্যা দুটির সমাধানে সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মের বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, কোনো ধরনের অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম হেলালী, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
