আইএমএফের চুক্তি ‘বাতিল করে দিয়েছি’: অর্থমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান ঋণ কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আইএমএফের শর্ত বাংলাদেশের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে গুরুত্ব দেবে সরকার।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু বলেন, ‘আইএমএফের প্রোগ্রাম ক্যানসেল করে দিয়েছি। তাদের শর্ত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও আইএমএফের অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে দেশ পরিচালনার সময় শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই সরকারের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক ঋণের ওপর নির্ভর না করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করা। এ জন্য দেশের আর্থিক কাঠামো, সরকারি অর্থব্যবস্থা ও বেসরকারি খাতে অর্থায়নের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের আগের ঋণ কর্মসূচি ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচির পর বাংলাদেশ কয়েক দফায় ঋণ পেয়েছে। পরে নতুন কর্মসূচির জন্যও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। গত ৩ জুন আইএমএফ জানায়, বাংলাদেশ নতুন একটি আইএমএফ-সমর্থিত আর্থিক কর্মসূচির জন্য আবেদন করেছে।
তবে রোববারের অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার এখন আইএমএফের কর্মসূচি থেকে সরে এসে বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পথে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডলার বন্ড, পান্ডা বন্ড, সামুরাই বন্ড ও স্থানীয় মুদ্রার বন্ডসহ বিভিন্ন আর্থিক উপকরণ ব্যবহারের কথা ভাবছে।
অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজারকে অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন। তাঁর মতে, উচ্চ সুদে ব্যাংকঋণের পরিবর্তে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেট থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থায়নেও পুঁজিবাজারকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতুকেও পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
আমির খসরু আরও বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের চেহারায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এ জন্য বাজারে স্বচ্ছতা, পেশাদারত্ব, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারকে এ অঞ্চলের অন্যান্য বাজারের সঙ্গে তুলনীয় পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
তিনি জানান, কনভার্টিবল বন্ড, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (আরইআইটি), ইক্যুইটি স্টক অপশন ও স্থানীয় মুদ্রায় বন্ডসহ নতুন আর্থিক পণ্য চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এসব পণ্য চালু হলে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে এবং বাজার আরও গভীর হবে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে আইপিও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হওয়ায় বাজারে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে বিভিন্ন সংস্কার করা হলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
