বিশ্বের অন্যতম সুন্দর ৩ প্রজাতির পাখি
কাজী খলিলুর রহমান
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
Violet Cuckoo- বেগুনি পাপিয়া। ছবি: আলা উদ্দিন
হীরামন লাল মাথা টিয়া-Plum-headed parakeet. ছবি: আলা উদ্দিন
Cotton Pygmy Goose- বালিহাঁস। ছবি: আলা উদ্দিন
Cotton Pygmy Goose- বালিহাঁস। ছবি: আলা উদ্দিন
বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ও নজরকাড়া পাখিগুলোর মধ্যে তিনটি অন্যতম প্রজাতি হলো: বালিহাঁস,বেগুনি পাপিয়া,হীরামন লাল মাথা টিয়া। এদের চমৎকার ও বর্ণিল পালকের কারণে এরা পাখিপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
বালিহাঁস: হাঁস মূলত জলচর পাখি। এরা অ্যানাটিডি (Anatidae) পরিবারের অন্তর্গত, যাদের সাধারণত মিঠা ও নোনা জল—যেমন নদী, খাল, বিল ও হ্রদে দেখা যায়। সাঁতার কাটার সুবিধার্থে এদের পায়ের আঙুলগুলো পাতলা চামড়া বা পর্দা দিয়ে যুক্ত থাকে। প্রধানত দুই ধরনের হাঁস দেখা যায়। ১. ড্যাবলিং হাঁস। ২. ডাইভিং হাঁস।
বেগুনি পাপিয়া: (Violet Cuckoo) হলো কোকিল (Cuculidae) পরিবারের একটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন এবং বিরল প্রজাতির ছোট আকারের পাখি।
পুরুষ পাখি: পিঠ, মাথা, ঘাড়, গলা ও বুক চকচকে বেগুনি রঙের হয়। ডানা ও লেজের পালকও বেগুনি এবং চকচকে।
স্ত্রী পাখি: স্ত্রী পাপিয়ার মাথা ও পিঠ তামাটে-বাদামী রঙের এবং ডানায় ও পিঠে সাদা-কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে।
হীরামন লাল মাথা টিয়া: Psittacula roseata) বা লালমাথা টিয়া বাংলাদেশের একটি বিরল ও সুন্দর আবাসিক পাখি। এদের ফুলটুসী বা আলুবোখারা মাথা টিয়াও বলা হয়। পুরুষ পাখির মাথা গোলাপী-লাল ও ঘাড় কালচে ডোরাকাটা হয়। স্ত্রী পাখির মাথা নীলচে-ধূসর। প্রধানত সিলেট, চট্টগ্রাম ও সুন্দরবনের চিরসবুজ বনে এদের দেখা মেলে।
দৈনিক জীবন ও খাদ্যাভ্যাস: এরা সাধারণত ছোট দলে বা জোড়ায় থাকে। এদের প্রধান খাবার হলো ফলমূল, শস্যদানা, ফুল, বীজ ও মধু।
প্রজনন: জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে এরা গাছের প্রাকৃতিক কোটরে বাসা বাঁধে এবং ৪ থেকে ৫টি সাদা ডিম পাড়ে।আবাসস্থল ও হুমকি: বাংলাদেশের বনাঞ্চলে এদের বিচরণ রয়েছে, তবে বনভূমি ধ্বংস ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে প্রজাতিটি বর্তমানে কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
