মাওলানা এটিএম মা’ছুম
বালাকোট ছিল মুসলমানদের অতীত ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেছেন, ১৮৩১ সালের ৬ মে সংঘটিত ঐতিহাসিক বালাকোট যুদ্ধ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, নৈতিকতা ও আত্মপরিচয় জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বালাকোট ছিল মুসলমানদের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক সংগ্রাম।
বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর বারিধারাস্থ মহানগরী অফিস প্রাঙ্গণে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত ‘বালাকোট দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মা’ছুম বলেন, উপমহাদেশে দীর্ঘ শাসনের পর মুসলিম সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, অনৈক্য এবং ধর্মীয় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। একই সময়ে শিরক ও বিদআতের বিস্তার ঘটে। ফলে মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন বাড়ে এবং রাজনৈতিক দুর্বলতা দেখা দেয়।
তিনি বলেন, শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তার সন্তানরা এ আন্দোলন এগিয়ে নেন। শাহ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিসে দেহলভীর ফতোয়ার পর মুসলিম সমাজে জিহাদের চেতনা সৃষ্টি হয়। এই ধারাবাহিকতায় সাইয়েদ আহমদ বেরলভী, মাওলানা আব্দুল হাই ও মাওলানা ইসমাঈল শহীদ নেতৃত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, ১৮৩১ সালের ৬ মে বালাকোটে সংঘটিত যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী পরাজিত হলেও এটি মুসলমানদের আত্মত্যাগ ও প্রেরণার প্রতীক হয়ে আছে।
মাওলানা এটিএম মা’ছুম বালাকোটের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, বালাকোট যুদ্ধ উপমহাদেশের মুসলমানদের আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। জাতীয় জীবনের প্রেক্ষাপটে এ যুদ্ধের শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক।
তিনি বালাকোটের প্রেরণা ও সমসাময়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ন্যায়, ইনসাফ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতৃবৃন্দ।
