×

রমজান

রোজা ভঙ্গের কারণগুলো কী?

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

রোজা ভঙ্গের কারণগুলো কী?

ছবি : সংগৃহীত

সিয়াম বা রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ। রোজা শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু বিধি-বিধান মেনে চলা আবশ্যক। কিছু কাজ রয়েছে, যা সংঘটিত হলে রোজা ভেঙে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়।

সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিয়তসহ পানাহার, ভোগ-বিলাস এবং পাপাচার থেকে বিরত থাকাই রোজার প্রকৃত তাৎপর্য। তাই রোজা পালনকালে সচেতনতা ও আত্মসংযম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে অনিচ্ছাকৃত ভুল বা অজ্ঞতাবশত এমন কিছু কাজ হয়ে যায়, যার ফলে রোজা ভেঙে যায়। একজন মুমিনের জন্য রোজা নষ্ট হওয়ার কারণ জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

১. ইচ্ছাকৃত পানাহার করা

রোজার প্রধান শর্ত হলো পানাহার বর্জন করা। রোজা রাখা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে রোজা ভেঙে যায়। তবে ভুলবশত কিছু খেয়ে ফেললে এবং মনে পড়ার সাথে সাথে তা বন্ধ করলে রোজা নষ্ট হয় না।

২. স্ত্রী সহবাস বা যৌন মিলন

রোজারত অবস্থায় দিনের বেলা স্ত্রী সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায়। এ ক্ষেত্রে কেবল কাজা (একটি রোজা) আদায় করলে হয় না, বরং কাফফারা (টানা ৬০টি রোজা) আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যায়।

৩. ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা

যদি কেউ মুখ ভরে ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। তবে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বা অসুস্থতার কারণে বমি হয়, তবে রোজা নষ্ট হবে না।

৪. নাকে বা কানে ওষুধ বা তেল প্রবেশ করানো

নাক দিয়ে তরল ওষুধ বা তেল যদি পেটে পৌঁছে যায়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। একইভাবে কানের পর্দা ছিদ্র থাকলে এবং সেখান দিয়ে ওষুধ ভেতরে প্রবেশ করলেও রোজা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৫. দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার খাওয়া

দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা ছোলা পরিমাণ বা তার চেয়ে বড় কোনো খাবার যদি জিহ্বা দিয়ে বের করে গিলে ফেলা হয়, তবে রোজা ভেঙে যাবে।

৬. ধূমপান বা ইচ্ছাকৃত ধোঁয়া গ্রহণ

বিড়ি-সিগারেট, হুক্কা বা আগরবাতির ধোঁয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ফুসফুসে টেনে নিলে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। ধূমপান কেবল স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর নয়, এটি রোজা ভঙ্গেরও একটি অন্যতম কারণ।

৭. ঋতুস্রাব বা হায়েজ-নিফাস

রোজা থাকা অবস্থায় যদি কোনো নারীর মাসিক বা ঋতুস্রাব শুরু হয়, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। পরবর্তীতে এই রোজার কাজা আদায় করতে হবে।

৮. পুষ্টিবর্ধক ইনজেকশন বা স্যালাইন

সাধারণ অসুস্থতার ইনজেকশনে রোজা ভাঙে না, তবে যদি এমন ইনজেকশন বা স্যালাইন নেওয়া হয় যা খাদ্যের বিকল্প হিসেবে কাজ করে এবং শরীরে শক্তি যোগায়, তবে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে।

সতর্কতা ও করণীয়

কাজা : রোজা ভেঙে গেলে রমজানের পরে একটির পরিবর্তে একটি রোজা রাখা।

কাফফারা : ইচ্ছাকৃত পানাহার বা সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভাঙলে নির্দিষ্ট মেয়াদে জরিমানা বা ধারাবাহিক রোজা রাখা।

রোজা কেবল উপবাস থাকা নয়, এটি তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জনের মাধ্যম। তাই ছোটখাটো ভুল এড়িয়ে চলে সঠিক নিয়মে রোজা পালন করা আমাদের দায়িত্ব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান লারিজানি নিহত

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান লারিজানি নিহত

খালেদা জিয়ার নামে খালের নামকরণ করলেন এমপি

খালেদা জিয়ার নামে খালের নামকরণ করলেন এমপি

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমানের রানআউট বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো এমসিসি

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমানের রানআউট বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো এমসিসি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App