৬ বছর ধরে বন্ধ রংপুর চিনিকল
বিপাকে আখচাষিরা, শ্রমিক-কর্মচারীদের মানবেতর জীবন
হাবিবুর রহমান হবি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
ফাইল ছবি
আধুনিকায়নের নামে বন্ধ করে দেওয়ার ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত রংপুর চিনিকল চালু না হওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা। আর আখ চাষ নিয়ে চরম বিপাকে পড়ে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাজারো আখচাষি। চিনিকলের বেকার হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থে ও আখ চাষ টিকিয়ে রাখতে দ্রুত চালুর দাবি এলাকাবাসীর।
জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার একমাত্র ভারী শিল্প কারখানা রংপুর চিনিকলটি গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে অবস্থিত। গত ২০২০-২১ সালের মাড়াই মৌসুম শুরুর কয়েক দিন আগে হঠাৎ আধুনিকায়নের নামে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন আখ মাড়াই স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর শ্রমিক-কর্মচারী এবং আখচাষীদের মতামত ও আন্দোলন, সংগ্রাম উপেক্ষা করেই আখ মাড়াই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপর থেকে চিনিকলের ভিতরে শুধু সুনসান নীরবতা, নিস্তব্ধতা আর জঙ্গলের রাজত্ব।
একসময় যে চিনিকলে শ্রমিকদের পদভারে মুখরিত থাকত এখন সেখানে মরিচা ধরা তালাবদ্ধ দরজা আর জঙ্গলে ডুবতে থাকা যানবাহনগুলোই সাক্ষী দিচ্ছে কতটা অবহেলা আর অনাদরে পড়ে রয়েছে এই শিল্পকারখানাটি। চাকরি হারিয়ে বহু শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছেন। যারা জীবিত রয়েছেন তাদের অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ফলে কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলের হাজার হাজার আখচাষি, শ্রমিক-কর্মচারী এবং চিনিকল কেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
তবে রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবু সুফিয়ান সুজা আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার এই অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে এবং বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থানের জন্য চিনিকলটি পুনরায় চালু করবে।
জানতে চাইলে রংপুর চিনিকলের ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম বলেন, ২০২০-২০২১ সালে আখ মাড়াই শুরুর প্রাক্কালে এই চিনিকল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে এর সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র কিছু লোক রাখা আছে নিরাপত্তা, হিসাব-নিকাশ ও দেখভাল করার জন্য। তবে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বেকার সমস্যা সমাধানসহ আখচাষীদের মাঝে সৃষ্ট হতাশা দূর করতে দ্রুত রংপুর চিনিকল চালু হবে—এমনই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
