অগ্রিম আয়কর দিতে চান না বাইক চালকরা, এনবিআরে স্বারকলিপি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি
আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ইঞ্জিনের ক্ষমতার (সিসি) ওপর ভিত্তি করে মোটরসাইকেলের অগ্রিম আয়কর বসানোর যে আলোচনা রয়েছে, তাতে আপত্তি জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) স্বারকলিপি দিয়েছেন বাইক চালকরা।
রোববার (১৭ মে) সকাল থেকে একদল বাইকার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনের সামনে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের পাঁচ সদস্যের একটা প্রতিনিধি দল ভেতরে গিয়ে স্বারকলিপি দিয়ে আসেন।
প্রতিনিধিদের একজন সদস্য একেএম ইমন সাংবাদিকদের বলেন, “ওভারঅল আমাদের আলোচনা হয়েছে, সৌজন্যমূলক আলোচনাই হয়েছে। উনারা ইতিবাচক আলোচনা করেছেন, আমরাও আসলে সৌজন্যমূলক কথা বলেছি। যেটা আমরা জানাতে চাই, যে অতিরিক্ত আয়কর, সেটির ব্যাপারে আমরা অনেকভাবেই যুক্তিতর্ক দিয়ে বুঝিয়েছি, উনারাও উনাদের যুক্তিতর্ক দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।"
ইমন বলেন, "যিনি আমাদের স্মারকলিপিটি রিসিভ করেছেন, উনি কাস্টমস কর্মকর্তা পলিসি। তো উনিসহ সবাই মিলে যেটা মূল কথা বলেছেন, মিডিয়াতে যেভাবে আমাদেরকে দেখানো হচ্ছে যে দশ হাজার, পাঁচ হাজার টাকা, অনেক বড় বড় অ্যামাউন্ট, এটা আসলে বাইকারদের জন্য কতটুকু যৌক্তিক হবে, এটা উনারা বিবেচনায় নিয়েছেন।
"একই সাথে আমরা যে স্মারকলিপি দিয়েছি, সেটাও তারা গুরুত্বপূর্ণভাবেই গ্রহণ করেছেন এবং আমরা বলেছি যে আসলে আর কোনো অ্যামাউন্টই আমাদের দেওয়া সম্ভব না।"
বাইকার ইমন বলেন, "আলোচনায় এসেছে যে আমরা অনেকবারই ট্যাক্স দিই না। কিন্তু কেনার সময় দিই, বছরে একবার দিই, রেজিস্ট্রেশনের সময় দিই। উনাদের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে যে ‘আপনারা উদ্বিগ্ন হয়েন না, যেভাবে মিডিয়াতে আসছে বিষয়টা ওভাবে না’।"
তার ভাষ্য, "আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। তারাও তো আসলে মানুষ, তারাও বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে। উভয় পক্ষের সমন্বয় এবং সমঝোতার মাধ্যমেই একটি হচ্ছে। যদি কোনো কর আসেও, সেটা এমন কোনো কর আসবে না যেটা আসলে আমাদের ওপর বার্ডেন হবে।
"তবে আমাদের দাবিতে আমরা এখনও অটল আছি যে আমরা আসলে কোনো আয়কর দেব না। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, আমরা কোনো আয়কর দিয়ে ঢাকা শহরে গাড়ি চালাব না, এটা আমরা জানিয়ে এসেছি।”
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে বর্তমানে কোনো আয়কর দিতে না হলেও আগামী অর্থবছর থেকে এক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর বসানোর কথা বলেছে এনবিআর।
১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত রেখে ১১১ থেকে ১২৫ সিসি হলে দুই হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি হলে প্রতি বছর ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আদায়ের পরিকল্পনার কথা বৈঠকে আলোচনা করা হয়।
বাজেটের কর আরোপ ও অব্যাহতির পুরো বিষয় নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন এনবিআরের নীতি শাখার কর্মকর্তারা।
