যে কারণে বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০২ পিএম
ফাইল ছবি
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।
জানা গেছে, গত বছরের ৫ মার্চ তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কয়েকজন কমিশনারকে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ও নাজেহাল করার ঘটনায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসি এসব সিদ্ধান্ত নেয়।
ঘটনার পর ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত বছরের ৬ মার্চ রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করা হয়। তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত গানম্যান আশিকুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
আরও পড়ুন: ‘একদিনেই শেয়ার কিনে বিক্রির অনুমতি’
ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী তদন্ত ও বিভাগীয় মামলাও হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য নেওয়া হয়। তদন্তসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বিএসইসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এর মধ্যে ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১৭ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং পাঁচজনের বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি একজন কর্মকর্তা আগেই অন্য একটি অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শাস্তির আওতায় পড়া একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবারই তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। তবে আনুষ্ঠানিক চিঠি তারা বুধবার হাতে পান। কয়েকজন কর্মকর্তা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির কার্যালয়ে গিয়ে চিঠি গ্রহণ করেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ তৎকালীন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চার ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে তাদের উদ্ধার করেন।
বিএসইসির তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ অবস্থান নেন। পরে তারা তৎকালীন কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবিদাওয়া তুলে কর্মবিরতিও পালন করেন। কয়েক দিন ধরে সংস্থাটিতে এ নিয়ে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এ ঘটনায় করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে এবং কমিশনার মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর ও ফারজানা লালারুখের উপস্থিতিতে কমিশনের সভা চলছিল। এ সময় অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েকজন জোরপূর্বক সভাকক্ষে প্রবেশ করে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা কমিশনের মূল ফটকে তালা দেন। একই সঙ্গে সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও লিফট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে বিএসইসি ভবনে ভীতিকর ও অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ওই ঘটনার তদন্ত ও বিভাগীয় প্রক্রিয়া শেষে এবার ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিল বিএসইসি। এর মধ্যে ১৭ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং পাঁচজনকে সর্বনিম্ন বেতন-গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
