ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ আয়োজন
সেলিনা আহমেদের কবিতাগুচ্ছ
সেলিনা আহমেদ
প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
সেলিনা আহমেদের কবিতাগুচ্ছ
বিভীষিকাময় এক শহরের কথা
সেদিন স্বপ্নে বুনে ছিলাম একটি দেশ,
লোহার পিঞ্জর ভেঙ্গে উড়িয়েছি পতাকা
চাঁদের হাসি সাত কোটি মানুষের মুখে।
বজ্রের মত গর্জে উঠে মৃত্তিকায় মিশেছে ত্রিশ লক্ষ প্রাণ
ফুলমতি! ছেড়ে দাও বলে চিৎকার করেছে
দিতে হয়েছে দুই লাখ নারীর মান
কলমের আঁচড়ে সাদা কাগজে লিখেছেন যারা চেতনার গীত
আলোকচিত্র করেছেন বাংলাদেশের মানচিত্র
তারাও চোখ বাঁধা হাত-পা বাঁধা ছেঁড়া ফাটা দেহ, মুন্ডু ছাড়া
বাংলাদেশের রূপকের সারি সারি
এক নিঃশব্দ লাশের আকাশ চুম্বি স্কোর বদ্ধভূমি-
পরিচয় মিলেছে দ্বিখণ্ডিত মগজের ও
তারা ছিলেন দেশের শুভ্র পোশাকের অগণিত কারিগর --
ভেবেছিল প্রাচীন স্মৃতির ইন্দ্র জালে বন্দি পড়েছে সেই ক্ষত চিহ্ন।
কিন্তু না অযাচিত সময়ের বুকে
জিঞ্জিরার তৈরি মানুষ রূপি কিছু এলিয়েন,
সময়ের অসভ্য খ্যাতির প্ররোচনায় সোনালী শহরে---
ঢেলে দিয়েছে বিষাক্ত অ্যালকালয়েড,
খুলে দিয়েছে বাঘের লোহর খাঁচার কপট
কর্মসংস্থা পুড়ে কর্মহীন হয়েছে হাজার হাজার শ্রমিক
ওরা চিতার আগুন জ্বেলেছে শ্রমিকের পেটে
জ্বালাও পোড়াও শুরু হলো শোষকের শাষনে
গৃহহারা কর্মহারা ,সাধারণ মানুষের উপর শকুনের থাবা
হাহাকার ধর্ষিতার লাশের নয় শুধু,
ওরা এখানে ক্ষান্ত নয়,
কবরেও জ্বেলেছে চিতা
কলম হয়েছে বন্দি খাঁচার পাখি
রক্তচক্ষু স্বাধীনতার----
ওরে আমার বুকে কেন এত হাহাকার
কবে পাবে এই বেদনার ছাড়
এই দেশ মাটি সাধারণ জনতার চিৎকার।
কবে দূর হবে বিভীষিকাময় চিপা গলির বলাৎকার
ছাড় পত্র পাবে কবে বর্জন কবে হবে
ডেভিল’স ব্রেড নামক নিউরোটক্সিন জাতীয় বিষ।
#
এক মুঠো অনুরাগ
আকাশে চাঁদটা দেখেছো কতই না সুন্দর,
কতো সুন্দর তারকারাজি,
আর ওই চাঁদটা যেন তোমার ভালোবাসা
তারকাগুলো যেন তোমার চারপাশের প্রকৃতি,
জানো তুমি!
আমার আকাশে তুমি একটাই প্রজাপতি,
একটাই প্যারাডাইস অভিলাষী
আমি মুগ্ধ তোমার সুপ্তো ভালোবাসা ছুঁয়ে,
আমি হারাই বারেংবার
তোমার হৃদয়ের গহীনে
আমি সাঁতার কাটি সেথায় তোমার ওষ্ঠ ছুঁয়ে
আমি তৃপ্ত হই অপরুপ হৃদ সিন্ধুর তরঙ্গে হেলে দুলে
আমি অনুভূতি ভরা পূর্ণিমার স্ন্যানে
আমি প্রজ্জ্বলিত হই তোমার অনুরাগ ছুঁয়ে,
আমি সৈকতে মিশে যাই উত্তর এবং দক্ষিণের বৃষ্টির সমাগমে,
আমি বালিহাড়ির মতো জমে যাই
অনুভূতির সৃষ্টি তোমার বিষ্ময় স্পর্শে
আমি ভালোবাসি ভালোবাসি প্রিয়তম
এক পৃথিবী আঁধারের এক মুঠো আলোর অনুরাগে
দুটি হৃদয়ের নির্জনে ----
#
সময়ের চিত্র
মানুষের মাথার খুলি
যেন পথের ধুলো বালি
মমতা গুলো যেন উটের জকি
হিংস্রতা যেন ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি
লোভ গুলো যেন রাজহংসী
লজ্জাবতি গাছটি যেন পাথরকুচি
সম্মান গুলো যেন জোঁকের শরীরে লবণ
পাহাড় হিমাদ্রি যেন সময়ের নৈতিক প্রলোভন
শিক্ষাগুলো যেন স্ব-পন্ডিতি
বুদ্ধিজীবীদের কঙ্কাল গুলো যেন চুলোর লাকড়ি
রাজা উজিরের মতামত যেন খেয়ালি
বিচার কার্যালয় যেন ছড়ই বাতি ঘর
দলে দলে আলেম-ওলামা
---সকলেই যেন সকলের পর
তরুণ সমাজ সবুজ পৃথিবী
হঠাৎ যেন ঠাকুমায়ের এলোমেলো বুলি
নম্রতা ভদ্রতা যেন ফুটপাতের পাশে নেওয়া ড্রাগ
প্রেম ভালবাসাগুলো যেন নির্লজ্জ চড়ই পাখির ডাক
----যেন সবাই মানুষ
কিন্তু কোথাও কি মানুষ নেই?-বাবু কাকা
পৃথিবী বড্ড ফাঁকা---
#
শান্তির সাদা প্রার্থনা
চাঁদের নরম আলোয় ভেসে ওঠে উৎসবের গান,
নতুন চাঁদে লেখা থাকে সুখের আহ্বান।
রোজার শেষে হৃদয় জুড়ে শান্তির ছোঁয়া,
ঈদের দিনে মিলেমিশে যায় সব কষ্টের বোঁয়া।
সাদা পাঞ্জাবিতে শিশুর হাসি ঝলমল,
মায়ের হাতের সেমাইয়ে ভালোবাসার দলবল।
দূরের মানুষ কাছাকাছি আসে এক নিমিষে,
ক্ষমার আলিঙ্গনে মন ভরে ওঠে নিঃশব্দ আবেশে।
মসজিদের প্রাঙ্গণে দোয়ার মৃদু ধ্বনি,
ভালোবাসায় ভরে ওঠে প্রতিটি প্রাণখানি।
হিংসা ভুলে, অভিমান গলে—
মানবতা জাগে নতুন আলোতে।
এই ঈদ হোক শান্তির, হোক মমতায় পরিপাটি-
প্রতিটি ঘরে ছড়াক আনন্দের স্পন্দন।
হাসি থাকুক সবার মুখে,
থাকুক ভালোবাসা অটুট—
ঈদ মানে হৃদয়ে হৃদয়ে গড়ে ওঠা নতুন সেতু।
