না ফেরার দেশে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
ছবি- সংগৃহীত
বিশ্ব ফুটবলকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিলেন ব্রাজিলের ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম মহানায়ক ও কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ব্রিতো। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই সেন্টার ব্যাকের মৃত্যুর খবরটি গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। মৃত্যুকালে এই ফুটবল নক্ষত্রের বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সিবিএফের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পেলে, তোস্তাও ও রিভেলিনোদের সতীর্থ ব্রিতোর বিদায়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের একটি গৌরবোজ্জ্বল ও সোনালি অধ্যায়ের অবসান ঘটল। ফুটবল মাঠের এই লড়াকু সৈনিক ট্রফি জয়ে যেমন অবদান রেখেছিলেন, তেমনি বিশ্বজুড়ে রেখে গেলেন কোটি ফুটবলপ্রেমীর ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা।
ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সিতে ১৯৬৪ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ৬১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন ব্রিতো। ১৯৭০ সালে মেক্সিকোর মাটিতে পেলের নেতৃত্বাধীন ব্রাজিলের যে দলটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফুটবল বিশ্বকে মোহিত করেছিল, সেই দলের রক্ষণভাগের মূল ভরসা ও প্রাণভোমরা ছিলেন তিনি। মাঠের রক্ষণে উইলসন পিয়াজার সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন দুর্ভেদ্য এক জুটি, যা প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগকে বারবার স্তব্ধ করে দিয়েছিল।
১৯৭০ সালের অবিস্মরণীয় সেই বিশ্বকাপ ছাড়াও ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের হয়ে মাঠ মাতিয়েছিলেন এই তারকা ডিফেন্ডার। বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি সেলেসাওদের হয়ে ১৯৭১ সালে কোপা রোকা এবং ১৯৭২ সালে তাসা ইন্ডিপেনদেন্সিয়ার ট্রফিও উঁচিয়ে ধরেছিলেন ব্রিতো।
ব্রিতোর মতো এক মহান ফুটবলারকে হারিয়ে ব্রাজিলের ফুটবল অঙ্গনে এখন গভীর শোকের ছায়া। সিবিএফ সভাপতি সামির জাউদ এক আবেগঘন বিবৃতিতে প্রয়াত এই তারকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে ব্রিতো আমাদের ছেড়ে গেলেন। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ জয়ে তার অবদান চিরকাল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আমাদের দেশের এই মহান তারকাকে আমি স্যালুট জানাই। মাঠে তার লড়াকু মানসিকতা ও নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য আজীবন অনুপ্রেরণা জোগাবে।’ সিবিএফের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাব ও সাবেক ফুটবলাররা এই কিংবদন্তির প্রয়াণে শোক প্রকাশ করছেন।
