বন্যার পানিতে যেসব ভুল কখনো করবেন না
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
টানা বর্ষণ, উজানের ঢল কিংবা আকস্মিক বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হলে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তবে শুধু বন্যার পানিই নয়, অসচেতনতা ও ভুল সিদ্ধান্তও প্রাণহানি এবং দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিবছর বন্যায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়া, সাপের কামড় এবং নানা দুর্ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যার সময় কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই বন্যার পানিতে চলাফেরা বা দৈনন্দিন কাজের সময় কয়েকটি বিষয় অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত।
প্রথমত, প্রয়োজন ছাড়া বন্যার পানিতে নামা উচিত নয়। বাইরে থেকে পানি শান্ত মনে হলেও এর নিচে খোলা ম্যানহোল, গর্ত, ভাঙা সড়ক, ধারালো বস্তু কিংবা বিচ্ছিন্ন বৈদ্যুতিক তার থাকতে পারে। জরুরি প্রয়োজনে পানিতে নামতে হলে লাঠি দিয়ে সামনে পরীক্ষা করে ধীরে ধীরে এগোতে হবে এবং সম্ভব হলে রাবারের বুট বা শক্ত জুতা ব্যবহার করতে হবে।
বন্যার সময় পানিতে দাঁড়িয়ে কখনো বৈদ্যুতিক সুইচ বা কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্পর্শ করা যাবে না। ভেজা হাতে বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র ব্যবহার করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে প্রবেশ না করাই নিরাপদ।
বন্যার পানি কখনো পান করা বা রান্নার কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ এ পানিতে নর্দমার বর্জ্য, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশে থাকতে পারে। তাই ফুটানো, বিশুদ্ধ বা বোতলজাত পানিই ব্যবহার করা নিরাপদ। প্রয়োজনে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে।
খালি পায়ে বন্যার পানিতে হাঁটাও বিপজ্জনক। এতে কাটা-ছেঁড়া, সংক্রমণ কিংবা সাপ ও অন্যান্য বিষাক্ত প্রাণীর কামড়ের ঝুঁকি থাকে। তাই সবসময় শক্ত স্যান্ডেল বা রাবারের বুট ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
বন্যার পানির সংস্পর্শে আসা খাবার খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। দূষিত খাবার গ্রহণ করলে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজে সংরক্ষিত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকা খাবারও খাওয়া উচিত নয়।
বন্যার এই সময় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়েও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। অল্প পানিতেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই শিশুদের কখনো একা পানির কাছে যেতে দেওয়া যাবে না এবং সবসময় বড়দের তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে।
বন্যার সময় সাপ, গুইসাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসতে পারে। এ ধরনের প্রাণী দেখলে নিজে ধরার চেষ্টা না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থা বা বন বিভাগের সহায়তা নেওয়া উচিত।
এ ছাড়া রাস্তার পানির গভীরতা নিশ্চিত না হয়ে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানো থেকেও বিরত থাকতে হবে। পানির নিচে রাস্তা ভেঙে যাওয়া বা তীব্র স্রোতের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
দুর্যোগের সময় স্থানীয় প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর কিংবা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করা প্রয়োজন। নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ পেলে দেরি না করে দ্রুত সরে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
বন্যার পানি নেমে গেলেও সঙ্গে সঙ্গে ঘরে প্রবেশ করা উচিত নয়। ভেজা বৈদ্যুতিক সংযোগ, গ্যাস লিক, দুর্বল ভবন কিংবা বিষাক্ত প্রাণীর উপস্থিতির মতো ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। তাই ঘরে প্রবেশের আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যা প্রতিরোধ সবসময় সম্ভব না হলেও সচেতনতা ও সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়। তাই সাহসিকতার চেয়ে সতর্কতাকেই গুরুত্ব দিয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করাই হতে পারে জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
