×

সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় হরিলুট হচ্ছে পরিত্যক্ত মোহিনী মিলের মূল্যবান সম্পদ

Icon

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ায় হরিলুট হচ্ছে পরিত্যক্ত মোহিনী মিলের মূল্যবান সম্পদ

নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া থেকে : প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল বন্ধ হয়েছে ৪ দশক আগে। কিন্তু মিলটি চালুকরণের নামে অনেক রাজনীতি হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এরপর থেকে এ কারখানার জমি বেদখল হতে থাকে। চুরি ও পাচার হতে থাকে কারখানার মূল্যবান সম্পদ ও যন্ত্রাংশ। বর্তমানে কারখানা ভবনের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। লতাপাতায় ঢেকে গেছে লোহার যন্ত্রাংশ। চারদিকে গজিয়েছে বটসহ নানা গাছপালা। পুরো কারখানার চত্বর পরিত্যক্ত হয়ে পরিণত হয়েছে জঙ্গলে। এদিকে রাতের আঁধারে মিলের সম্পদ ও যন্ত্রাংশ হরিলুটের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। তারা ঐতিহ্যবাহী এই মিলটির সম্পদ রক্ষায় সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপসহ নতুন পরিকল্পনায় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, ১৯০৮ সালে মাত্র আটটি তাঁত যন্ত্র নিয়ে মোহিনী মিলের যাত্রা শুরু করেন ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের সদস্য মোহিনী মোহন চক্রবর্ত্তী। স্থান হিসেবে বেছে নেন তৎকালীন নদীয়া জেলার কুষ্টিয়া মহকুমাকে। প্রতিষ্ঠার কিছুদিনের মধ্যেই মিলটি একটি লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়। ইংল্যান্ড থেকে আনা পিতলের হ্যান্ডলুম মেশিন আর তৎকালীন মিলের কর্মচারী বাগচী জানালেন, মোহিনি মিলে পিতলের তৈরি প্রায় ২০০ তাঁত আমদানি করে মিলের উৎপাদন বহুগুণে বাড়িয়ে তোলা হয়। ১৯২০ সালের দিকে মিলে প্রায় ৩ হাজার মানুষ কাজ করত। স্বদেশি যুগে মিলে উৎপাদিত দেশি এই কাপড়ের চাহিদাও ছিল ব্যাপক। এখানকার উৎপাদিত সুতা ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বার্মায় রপ্তানি শুরু হওয়ায় মিলটি পুরো এশিয়ার মধ্যে জায়গা করে নেয়।

সূত্র জানায়, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর পাকিস্তান সরকার মিলটিকে শত্রæ সম্পত্তি ঘোষণা করে মিল মালিকদের দেশ ছাড়া করেন। মিলের সব সম্পত্তি দিয়ে দেয়া হয় পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের হাতে। ওই বছর থেকে লোকসানের শুরু। ১৯৬৭ সালে কোনো কারণ ছাড়ায় বন্ধ ঘোষণা করা হয় মিলের উৎপাদন। শুরু হয় শ্রমিক অসন্তোষ। মুক্তিযুদ্ধের সময় একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় মিলটি। মিলের জমিসহ মূল্যবান সম্পদ দখল করে নেয় একটি চক্র। ১৯৭২ সালে স্বাধীন দেশে মিলটি জাতীয়করণের পর এটাকে ন্যস্ত করা হয় বস্ত্র শিল্প করপোরেশনের হাতে। অত্যাধিক লোকসানের কারণে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চালানোর অযোগ্য বিবেচনায় হওয়ায় ১৯৮১ সালে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে মিলটি গুটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে মিলের সম্পত্তি বিক্রি করে দেনা মেটানোর আদেশ দেয়া হয়। এরপর অন্তত পাঁচবার হাত বদল হয়েছে।

মোহিনী মিল বন্ধের পর থেকেই জমি বেদখল হতে থাকে। চুর ও পাচার হতে থাকে কারখানার মূল্যবান সম্পদ ও যন্ত্রাংশ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সম্প্রতি রাতের আঁধারে মিল থেকে চুরি হওয়া লক্ষাধিক টাকার তার উদ্ধার করেছে তারা। মিলের এই সম্পদ ও যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

মিলের ম্যানেজার তৌসিক হাসান জানিয়েছেন, নিরাপত্তা জোরদার করে স্থাপনা রক্ষা ও যন্ত্রাংশ চুরি ঠেকাতে নজরদাড়ি বাড়াবেন বলে জানিয়েছেন মিলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা। মিলের ৯৯ বিঘা সম্পত্তির পুরোটাই কুষ্টিয়া পৌরসভার মধ্যে। এই মিলটি নিয়ে বিগত সময়ে অনেকে রাজনীতি করেছেন। কেউ কেউ এই মিলটি পুজি করে নিজের সম্পদও গড়েছেন। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেননি তবে এখন তারা স্বরব। একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নাম মাত্র টাকায় পুরো মিলের জায়গাটি একটি কোম্পানীর কাছে বিক্রির কথা উঠেছিল কিন্তু তার কোনো আলামত দেখেনি এলাকাবাসী। অথচ ৯৯ বিঘার জমির বর্তমান বাজার দর প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। কালের বির্বতনে এই বস্ত্র কলটি হারিয়েছে তার সব গৌরব। হাত বদলের চক্রে বন্ধ হওয়া মোহিনী মিল এখন শুধু কালের স্বাক্ষী।

মিলের তৎকালীন কর্মচারীর ছেলে এ জে সুজন জানান, কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল আমাদের ঐতিহ্য। এই মিলকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া পরিচিতি লাভ করে। অথচ আজকে রাতের আঁধারে মিলের যন্ত্রাংশ হরিলুট হচ্ছে। দখল হচ্ছে মিলের জমি। তিনি এর প্রতিকার চান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত

ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত

মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

ট্রাম্প জামাতার ফোন হ্যাক, মিলল ‘মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনে’র নীল নকশার ইঙ্গিত

ট্রাম্প জামাতার ফোন হ্যাক, মিলল ‘মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনে’র নীল নকশার ইঙ্গিত

সোনা ও রুপার দাম আরও কমল

সোনা ও রুপার দাম আরও কমল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App