বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডব
মেট্রোরেলের দুটি স্টেশনজুড়েই সন্ত্রাসীদের ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষতচিহ্ন
অগ্রাধিকারভিত্তিক এই মেগাপ্রকল্পটি ধ্বংস করাই ছিল সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেব দুলাল মিত্র : রাজধানীর মিরপুরের দুই মেট্রো রেলস্টেশনজুড়ে শুধু নাশকতার চিহ্ন। যেদিকেই চোখ যায় শুধুই ভাঙা কাচ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভাঙা আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক ক্যাবল, ফ্যান, ভেন্ডিং মেশিন, কম্পিউটার মনিটর, পিসিসহ নানা ধরনের জিনিসপত্র। টিকেট কাউন্টার, এমআরটি পাস বিক্রির কাউন্টারগুলোতে কাজে লাগানোর মতো অবশিষ্ট কিছুই নেই। সিসি ক্যামেরাগুলোও ভেঙে ফেলা হয়েছে। বৈদ্যুতিক ক্যাবল টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। জরুরি ফায়ার ফাইটিংয়ের জন্য রাখা টুলস বক্সটি ভেঙে ধারালো কুড়াল বের করে কুপিয়ে সব তছনছ করেছে হামলাকারীরা। সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক অন্যতম এই মেগা প্রকল্পটি ধ্বংস করে দেয়াই ছিল নাশকতাকারীদের প্রধান লক্ষ্য। ১৯ জুলাই হামলার পর যে অবস্থা ছিল, গতকাল বৃহস্পতিবারও একই অবস্থা দেখা যায় মিরপুর-১০ মেট্রো রেলস্টেশনজুড়ে। হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের পপাশাপাশি এই স্টেশনে লুটপাটও চালানো হয়। অন্যদিকে হামলায় কাজীপাড়া স্টেশনটিও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই স্টেশনটিতেও প্রায় দেড় হাজার দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে কনকোর্স হলে ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাট চালায়। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রো রেলস্টেশন পরিদর্শন করেছেন।
ডিএমটিসিএল এমডি যা বললেন : ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক জানিয়েছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে মিরপুর-১০ নম্বর ও কাজীপাড়া মেট্রো রেলস্টেশনে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এর মধ্যে মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনটি একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই স্টেশনটি শতভাগ ক্ষতিগ্রস্ত। স্টেশনের গেট, এস্কেলেটর সিঁড়ি, টিকেট কাউন্টার, অটোমেশন, কম্পিউটার সিস্টেম, সিসি ক্যামেরা, মেশিনারিজ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাসহ অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। মেরামত করে এই স্টেশনটি চালু করতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে। তিনি বলেন, মেট্রোরেলের প্রতিটি স্টেশন অত্যাধুনিক। যেসব জিনিসপত্র ভেঙে ফেলা হয়েছে, সেগুলো ইচ্ছে হলেই বাজার থেকে কিনে এনে লাগিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। বেশির ভাগ জিনিসপত্র জাপান থেকে আসা। এসব জিনিসপত্র অর্ডার দিয়ে তৈরি করে আনতে হবে। প্রযুক্তিগতসহ অনেক জিনিসপত্র অর্ডার দিয়ে তৈরি করে আনতে হবে, এটা সময় সাপেক্ষ বিষয়। মেট্রেরেলের স্টেশনে এভাবে ধ্বংসযঞ্জ চালানো খুবই দুঃখজনক।
এম এ এন ছিদ্দিক আরো বলেন, দুটি স্টেশনের ক্ষতির পরিমাণ কত তা এখনই বলা সম্ভব নয়। এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারিগরি বিষয়ে দক্ষ প্রকৌশলীরা সব কিছু সূ²ভাবে খতিয়ে দেখছেন। এই কমিটির রিপোর্টের পর আমরা দুটি স্টেশনের মোট ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারব।
প্রত্যক্ষদর্শীরা যা দেখলেন : ডিএমটিসিএলের নিরাপত্তাকর্মী হাবিব সেদিনের নাশকতার বর্ননা দিতে গিয়ে বলেন, স্টেশনের সিঁড়ি থেকে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত সব কিছুই তছনছ করে দিয়েছে হামলাকারীরা। ১৯ জুলাই আমি স্টেশনেই ডিউটিতে ছিলাম। বিকালের দিকে এই এলাকায় শত শত মানুষ রাস্তা অবরোধ করে রাখে। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তারা গোল চক্করের ফুট ওভারব্রিজে আগুন দেয়। ২ থেকে ৩ শতাধিক হামলাকারী সন্ধ্যার পর মিরপুর-১১ নম্বর ও ১০ নম্বরের দিক থেকে স্টেশনের দিকে আসতে থাকে। হামলাকারীদের একটি গ্রুপ প্রথমে মিরপুর রোডের পূর্বপাশের এফ এস স্কোয়ারের গেটসংলগ্ন মেট্রোরেলের ‘বি’ নম্বর গেটে হামলা চালায়। এ সময় স্টেশনে প্রবেশের সবগুলো গেট বন্ধ ছিল। স্টেশনে প্রবেশের মূল গেট থেকে ভাঙচুর শুরু করে তারা। হামলাকারীরা স্টেশনে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি সিড়ির স্টিলের সাইড কাভার বা স্টিলের বেড়া ভেঙে সিঁড়িতে ঢুকে পড়ে। এরপর তারা গেট ভাঙে এবং অন্যরাও ভেতরে প্রবেশ করতে থাকে। ভাঙচুরের পাশাপাশি ব্যাপক লুটপাট চালায়।
কম্পিউটারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। এরপর তারা ফায়ার ফাইটিংয়ের কাজে ব্যবহৃত কুড়াল বের করে পুরো স্টেশনজুড়ে ভাঙচুর শুরু করে। এস্কেলেটর সিঁড়ি, টিকেট কাউন্টার, জানালা-দরজা, আলামারি, লকার, চেয়ার, টেবিল, মেট্রো পাস বিক্রির কাউন্টার ভেঙে ফেলে। তারা সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং খুলেও নিয়ে গেছে। স্টেশনের দুই পাশের কাচের দেয়াল ক্ষত-বিক্ষত।
ডিএমটিসিএল এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হামলাকারীরা কয়েকভাগে ভাগে বিভক্ত হয়ে একটি গ্রুপ মেট্রোরেলে হামলা চালায়, অপর একটি গ্রুপ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জোনাল অফিসের ভেতরে ঢুকে গাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ ভাঙচুর চালায়। এদের একটি অংশ আবার পাশের এসএফ স্কোয়ার শপিং কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। হামলাকারীদের কয়েকজন প্রথমে বি নম্বর গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আরো হামলাকারী ডি নম্বর গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এর মধ্যেই সিটি করপোরেশনের গাড়িতে দেয়া আগুনের ধোঁয়ার কুণ্ডলিতে পুরো এলাকা ছেয়ে যায়। অত্যাধুনিক এই মেট্রোরেল স্টেশনে অটোমেটিক ফায়ার এলার্ম সিস্টেম রয়েছে। এর সঙ্গে চারটি এমার্জেন্সি গেটের সংযোগ রয়েছে। সিটি করপোরেশনের ধোঁয়া স্টেশনের ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে অটো ফায়ার এলার্ম বেজে ওঠে। এ সময় সেই অটো ফায়ার এলার্ম গেটগুলো খুলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে শত শত হামলাকারী ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালাতে থাকে। প্রাণ ভয়ে আমরা দোতলার কর্নকস হল থেকে তৃতীয় তলায় মূল প্ল্যাটফর্মে উঠে গেটগুলো আটকে দেই।
এক কর্মকর্তা জানান, হামলাকারীদের বেশির ভাগই অপেক্ষাকৃত তরুণ। তাদের বয়স ১৫ থেকে ২৮ বা ৩০ বছরের মধ্যে। এরা বিহারি ক্যাম্পগুলো এবং আশপাশের বস্তিগুলো থেকে এসে হামলায় অংশ নেয় বলে মনে হয়। তারা স্টেশনের তৃতীয় তলার প্ল্যাটফর্মের অবস্থানের বিষয়ে হয়তো জানত না। এ কারণে তারা তৃতীয় তলায় ওঠেনি। ফলে তৃতীয় তলা অক্ষত রয়েছে। তৃতীয় তলায় উঠতে পারলে মেট্রোর লাইন উপড়ে ফেলার চেষ্টা করত, কিন্তু সেটা হয়নি।
তারা আরো জানান, ফায়ার টুলস বক্স ভেঙে ধারাল কুড়াল, শাবল, পাইপের স্টিলের অংশ বের করে স্টেশনের ভেন্ডিং মেশিন, কার্ড পাঞ্চ করে ভেতরে প্রবেশের মেশিন (পিজি মেশিন), স্টেশনের এসিআর অর্থাৎ কন্ট্রোল রুম, ইএসও অর্থাৎ এমআরটি পাস বিক্রির মেশিন ও টম এলাকায় ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা ১০ থেকে ১৫টি ফ্যান, ৭০টি সিসি ক্যামেরা, ৪টি অটো ফায়ার এলার্ম, অসংখ্য সেন্সর, ৪১টি কম্পিউটার, পিসি, ভাঙচুর করে। ভাঙচুরের পাশাপাশি স্টেশনের অনেক মালামাল হামলাকারীরা লুট করে নিয়ে গেছে। হামলাকারীদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে স্টেশনের টয়লেট, সুয়্যারেজ লাইনের পাইপ, বেসিন, কমোড, আয়নাসহ কোনো কিছুই বাদ যায়নি।
জানা গেছে, হামলাকারীরা সংখ্যায় অনেক বেশি হওয়ায় এমআরটি পুলিশ কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। এমআরটি পুলিশ সদস্যরা প্রথমে নিরাপদ দূরত্বে সরে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে ডিএমটিসিএল এর নিরাপত্তাকর্মীরাও তৃতীয় তলা থেকে লাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া স্টেশনে গিয়ে পৌঁছে। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে হামলা চালিয়ে হামলাকারীরা আবার রাস্তায় চলে আসে।
মেট্রো রেলস্টেশনের নিচের ফুটপাতের ব্যবসায়ী আলমগীর বলেন, হামলাকারীরা বিভিন্ন দিক থেকে এসে স্টেশনে হামলা চালায়। এটা একটা জঘন্য কাজ করেছে। রাস্তায় ঝামেলার কারণে তিনিসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী তাদের মালামাল নিয়ে সিটি করপোরেশনের গেটের ভেতরে রেখেছিলেন। হামলাকারীরা সব পুড়িয়ে দিয়েছে। হামলাকারীরা এফএস মার্কেটের গেট ও শাটার ভেঙে মার্কেটের ভেতরে ঢুকে হামলা চালায় এবং লুটপাট করে।
মামলা : মিরপুর-১০ নম্বর ও কাজীপাড়া স্টেশনে ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় পৃথক ৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা করে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ, দুটি করে ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) পুলিশ এবং অপর মামলাটি করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। এসব মামলায় সব মিলিয়ে অজ্ঞাত পরিচয় প্রায় ২১ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
২৩ জুলাই এমআরটি লাইন-৬ এর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক গোলাম রসূল আজাদ বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় অজ্ঞাত পরিচয় সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার জনকে। মামলার এজাহারে বলা হয়, কোটা বিরোধী আন্দোলন ঘিরে গত ১৯ জুলাই মিরপুর মডেল থানা এলাকা ও বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে আসা অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার দুর্বৃত্ত সরকারবিরোধী আন্দোলনরত বিভিন্ন দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে একত্রিত হয়ে লাঠিসোটা, লোহার রড, হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড ও নাশকতা সংঘটিত করার লক্ষ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করে।
অপরদিকে কাজীপাড়া মেট্রো স্টেশনের ভাঙচুরের ঘটনায় ২৪ জুলাই এমআরটি পুলিশের এএসআই সামসুল আলম বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় এক থেকে দেড় হাজার ব্যাক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, আসামিরা কাজীপাড়া মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন গেট জোরপূর্বক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কেপিআইভুক্ত সরকারি স্থাপনাটির স্টেশনের কনকোর্স হলে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালায়। তারা মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি লুটপাট ও বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করে। এদিন স্টেশনের সব কলাপসিবল গেট, লিফট এবং এস্কেলেটর বন্ধ রাখা হয়। কোটা আন্দোলনের নামে অজ্ঞাত পরিচয় এক থেকে দেড় হাজার বিএনপি, জামায়াত, শিবিরের নেতাকর্মী, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের গেটগুলো ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ফোর্স ও আনসার সদস্যরা দুষ্কৃতকারীদের স্টেশনে প্রবেশে বাধা দেয়। আসামিরা স্টেশনের চারপাশের বিভিন্ন সিঁড়ির কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে।
ক্ষয়ক্ষতি : মেট্রোরেলে হামলার ঘটনায় ডিএমটিসিএল এখনো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তারা তদন্তের পর জানাবে। তবে পুলিশের দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে ৪টি মামলায় মেট্রোরেলের ক্ষয়ক্ষতির মোট পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩০০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনে ভাঙচুর-লুটপাটে ক্ষতি ২৫০ কোটি টাকা এবং কাজীপাড়া স্টেশনের ক্ষয়ক্ষতি ১০০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি : মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনে হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থাও এই ঘটনার তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। এছাড়া মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা ৫টি মামলার তদন্ত পৃথকভাবে চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার স্টেশনটি ঘুরে ঘুরে ধ্বংসযজ্ঞ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বর্তমানে স্টেশনটি সোবাহিনী ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
হামলার চেষ্টা পল্লবী ১১ নম্বর ও ফার্মগেট স্টেশনে : একই দিন দূর্বৃত্তরা পল্লবী ও ১১ নম্বর স্টেশনেও হামলার চেষ্টা চালায় বলে জানা গেছে। কিন্তু সন্ত্রাসীরা ভেতরে ঢুকতে পারেনি বলে এই স্টেশনগুটি রক্ষা পায়। মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনে হামলার তিন দিন আগে ১৬ জুলাই ফার্মগেট মেট্রো রেলস্টেশনে হামলার চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। এদিন সন্ধ্যার পর স্টেশনের কনকোর্স এলাকায় দুই দফায় হামলাকারীরা প্রবেশ করে নাশকতার চেষ্টা চালায়। তারা মেট্রোরেল চলাচলে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করে। কিন্তু এমআরটি পুলিশ সেখানে সতর্ক অবস্থানে ছিল। পুলিশ বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনকারীদের স্টেশনের ভেতর থেকে বের করে দেয়। মেট্রোরেল স্টেশনের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। সন্ত্রাসীরা স্টেশনের মূল প্ল্যাটফর্মে উঠতে পারেনি।
কাজীপাড়া স্টেশনে হামলা : মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনে হামলার পর দুর্বৃত্তরা কাজীপাড়া স্টেশনে হামলা চালায়। কয়েক হাজার দুর্বৃত্ত প্রবেশ ও বহির্গমন গেট জোরপূর্বক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কেপিআইভুক্ত এই স্টেশনের কনকোর্সে হলে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালায়। তারা মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি লুটপাট ও বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করে। আনসার সদস্যরা দুষ্কৃতকারীদের স্টেশনে প্রবেশে বাধা দেয়। কিন্তু আসামিরা স্টেশনের চারপাশের বিভিন্ন সিঁড়ির কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের এলোপাতাড়ি ভাবে মারপিট করে।
মেট্রোরেল চালু অনিশ্চিত : ডিএমটিসিএল এর একাধিক কর্মকর্তা জানান, কবে থেকে মেট্রোরেল চলাচল শুরু হবে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। চলাচল শুরুর আগে বৈদ্যুতিকসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। দেশি ও বিদেশি প্রকৌশলীরা এতে কাজ করবেন। তারা সিগন্যাল দেয়ার পর আবার পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালিয়ে দেখা হবে। মিরপুর-১০ নম্বর ও কাজীপাড়া স্টেশন দুটি বাদ রেখেই মেট্রোরেল চলাচল করবে। লাইন ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা না থাকলে আগামী সপ্তাহে আবার মেট্রোরেল চলাচল শুরু হতে পারে। আর যদি কোনো সমস্যা হয়, সেগুলো ভালোভাবে মেরামতের পর দফায় দফায় ট্রায়াল দেয়ার পরই মেট্রোরেল চালু করা হবে। সেক্ষেত্রে আরো বেশি সময় লাগবে।
এদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তারা গতকাল মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনটি পরিদর্শন করেছেন।
