×

প্রথম পাতা

থামছে না শ্রমিক অস্থিরতা

গাজীপুর সাভার আশুলিয়ার ১১৪ পোশাক কারখানা বন্ধ

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বিগ বস কারখানায় আগুন

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর সাভার আশুলিয়ার ১১৪ পোশাক কারখানা বন্ধ

বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ার ১১৪টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ১৩ (১) ধারায় ৫৪টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ। বাকিগুলোয় শ্রমিকরা উপস্থিত হয়েও কাজ না করায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, বন্ধ থাকা ১১৪টি কারখানার মধ্যে ১১১টি সাভার, আশুলিয়া ও জিরানি এলাকার। বাকি ৩টি কারখানা গাজীপুরের। এছাড়া, সারাদেশে খোলা কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ২৮টি। দুটি কারখানা খোলার রাখা সত্ত্বেও কাজ বন্ধ আছে। ১ হাজার ৩০৯টি কারখানা (৬১ দশমিক ০৫ শতাংশ) শ্রমিকদের আগস্ট মাসের বেতন পরিশোধ করেছে।

বিজিএমইএ সূত্র জানায়, আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রম আইন-১৩ (১) ধারা অনুযায়ী- শারমিন গ্রুপ, অনন্ত গ্রুপ, মন্ডল, লুসাকা গ্রুপসহ অন্তত ২২টি গ্রুপ/কারখানা কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে কারখানাগুলোর সামনে এ সংক্রান্ত নোটিস ঝুলিয়ে দেয়া শুরু হয়। গতকাল বুধবার সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত আশুলিয়ার কারখানাগুলো খোলা ছিল, কিন্তু বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকরা কাজ না করায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে এমন কারখানার সংখ্যা অন্তত ৮টি।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিজিএমইএর নেতারা মঙ্গলবার পর্ষদ সভা করে কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তবে নেতাদের একটি অংশ আশুলিয়ার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রম আইনের নির্দিষ্ট ধারায় কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী গতকাল কারখানা খোলা হয়নি। বিজিএমইএর একজন সহসভাপতি জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কারখানা মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন সংগঠনের নেতারা। শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার

মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, যারা পারছেন, তারা কারখানা চালাচ্ছেন। আর যারা পারছেন না, কারখানা ছুটি দিয়ে দিচ্ছেন।

এদিকে গতকাল গাজীপুরে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বিগ বস নামের একটি কারখানায় আগুন দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। কাশিমপুরের ভবানীপুর এলাকায় কারখানাটি অবস্থিত। আগুন নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার সময় ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, গতকাল সকাল থেকে বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে বেক্সিমকোর শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করেন। তারা নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক অবরোধ করে রাখে। দুপুর ১২টার দিকে বেক্সিমকোর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পাশের বিগ বস করপোরেশনের শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। ওই কারখানার শ্রমিকরা বেক্সিমকো শ্রমিকদের আহ্বানে সাড়া না দেয়ায় ওই কারখানায় হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানার ঝুট ও কেমিক্যাল গুদামে আগুন ধরিয়ে দেন।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, বিগ বস নামে একটি কারখানায় আগুন লাগার খবর পেয়ে আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা একটি গাড়ি ভাঙচুর করলে কর্মীরা চলে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করে।

কারখানায় অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি বেতন-ভাতার দাবিতে গতকাল চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক অবরোধ করেন বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিকরা। সকাল ৮টা থেকে গাজীপুরের চক্রবর্তী এলাকায় তারা সড়কে অবস্থান নেন। বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো শাখা বা বিভাগে বে-আইনি ধর্মঘটের কারণে মালিক ওই শাখা বা প্রতিষ্ঠান আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে ধর্মঘটে অংশ নেয়া শ্রমিকরা কোনো মজুরি পাবেন না। শ্রমিকরা জানান, তারা কারখানার সামনে বন্ধের নোটিস পেয়ে ফিরে আসেন। শ্রম আইনে কারখানা বন্ধের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো পূর্ব তথ্য ছিল না।

যদিও পোশাক খাতের একটি শিল্প গ্রুপের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, ১৩ (১) ধারায় বন্ধ ঘোষণা করা কারখানাগুলোর এই সংখ্যা বাস্তবিক অর্থে আরো বেশি হবে। কারণ একেকটি গ্রুপের বেশ কয়েকটি করে কারখানা রয়েছে। তিনি জানান, বন্ধ ঘোষণা করা কারখানাগুলো মূলত বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বাইপাইল থেকে জিরাবো এলাকার উভয় পাশে, জিরাবো টু বিশমাইল সড়ক এবং কাঠগড়া অঞ্চলে অবস্থিত। মালিকপক্ষের সামনে বিকল্প আর কোনো পথ খোলা ছিল না। সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে কারখানা চালু রাখার। কিন্তু পরিশেষে শিল্পের সাধারণ নিরীহ শ্রমিক ও সম্পদ রক্ষায় মঙ্গলবার রাতে মালিকপক্ষ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, শ্রমিক অসন্তোষ শুরুর পর পরিস্থিতি ঘোলাটে হলে অনেক মালিকই ১৩ (১) ধারায় কারখানা বন্ধের দাবি তুলেছিলেন। বিজিএমইএর সভায়ও এই দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু সামগ্রিকভাবে শ্রমিকদের এবং শিল্পের স্বার্থ চিন্তা করে সেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর, বিভিন্ন গ্রুপ/কারখানার মালিকপক্ষ নিজেরাই বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

এখনই হচ্ছে না এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেল প্রজ্ঞাপন

এখনই হচ্ছে না এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেল প্রজ্ঞাপন

দেশে শীত নামবে কবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

দেশে শীত নামবে কবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

চিকিৎসা শেষে এক মাস পর দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

চিকিৎসা শেষে এক মাস পর দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ ২১ জন নিহত

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ ২১ জন নিহত

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App