চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় পানিবন্দিরা মানবিক সংকটে
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, ও বাঁশখালী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোমর, কোথাও গলা সমান পানিতে তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ভেসে গেছে ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল ও গবাদিপশুর খাদ্য। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে মানবিক সংকট।
এর মধ্যে পানিতে ভেসে মারা যাচ্ছে শিশুরা। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ও আনোয়ারায় বন্যার পানিতে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাঁশখালী উপজেলায় গতকাল শুক্রবার দুপুরে বাহারছড়া ইউনিয়নের রত্নপুর ও ইলশা গ্রামে এ মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ইলশা গ্রামের মফজল আহমেদের নতুন বাড়ির ওমান প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. আশিক (১১) এবং রত্নপুর গ্রামের উনদুনী বর বাড়ির মো. আনোয়ারের দ্বিতীয় ছেলে মো. মিরাজ (৫)।
মিরাজের চাচা মো. দিদার জানান, মিরাজ অন্য শিশুদের সঙ্গে পানি দেখতে গিয়েছিল। পথে স্রোতে পড়ে ভেসে যায় মিরাজ। পরে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেয়া হলে চিকিৎসক মিরাজকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে ডুবে মো. ইশতিয়াক (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলার ৫ নম্বর বরুমচড়া ইউনিয়নের নলদিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাসান সর্দ্দারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইশতিয়াক ওই এলাকার মো. ইদ্রিসের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খেলতে গিয়ে ইশতিয়াক নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের অতিবৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া একটি ডোবাসংলগ্ন জমি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাঁশখালী উপজেলা ইতোমধ্যে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবারের তথ্য অনুযায়ী, বাঁশখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ২১২টি গ্রামের অধিকাংশই তখন থেকে পানির নিচে। বাহারছড়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর, আবার কোথাও গলাসমান পানি জমে ছিল।
বাহারছড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য কামরুল আলম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, এই ইউনিয়নের অধিকাংশ বাড়িঘর পানির নিচে চলে গেছে। পাকা দালান ছাড়া কাঁচা, টিনসেড ও মাটির ঘরগুলো পুরোপুরি পানির নিচে।
