×

চট্টগ্রাম

কক্সবাজার উপকূলে ২ দিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩১ এএম

কক্সবাজার উপকূলে ২ দিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার

ছবি : সংগৃহীত

মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কক্সবাজার ও টেকনাফ উপকূল থেকে বঙ্গোপসাগরে ভেসে আসা পাঁচটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি মানুষের কঙ্কাল, তিনটি অর্ধগলিত লাশ এবং কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে উদ্ধার হওয়া মাথা ও দুই পা বিচ্ছিন্ন একটি খণ্ডিত মরদেহ।

ধারাবাহিক এসব ঘটনায় উপকূলজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, প্রতিটি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন কচুবুনিয়া-কাটাবুনিয়া এলাকায় জোয়ারের পানিতে একটি মানুষের কঙ্কাল ভেসে আসে। স্থানীয়দের খবরে শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।

শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জীব জানান, কঙ্কালটি কয়েক দিন আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় সাগরের পানিতে থাকায় মরদেহটি সম্পূর্ণ পচে কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) টেকনাফের তিনটি পৃথক স্থান থেকে আরো তিনটি অজ্ঞাত অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরো পড়ুন : বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুরে সেন্টমার্টিন সমুদ্রসৈকত, বিকেলে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ সমুদ্রসৈকত এবং সন্ধ্যায় সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া সমুদ্রসৈকত থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে একটি নারীর। সবগুলোই ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসে আরো একটি খণ্ডিত মরদেহ।

সৈকতে দায়িত্ব পালনরত বিচকর্মী খোরশেদ আলম প্রথমে মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সরোয়ারের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটির মাথা ও কোমরের নিচের দুই পা বিচ্ছিন্ন ছিল। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকায় এটি মারাত্মকভাবে পচে বিকৃত হয়ে গেছে। এ অবস্থায় প্রাথমিকভাবে এটি নারী না পুরুষ, তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী কোনো ট্রলারডুবি, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের বহনকারী নৌযানের দুর্ঘটনা অথবা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী পাড়ি দেওয়ার সময় কোনো নৌকাডুবির ঘটনায় এসব মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীপথে মানবপাচার, অনিরাপদ নৌযাত্রা এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনার কারণে মাঝেমধ্যে উপকূলে মরদেহ ভেসে আসার ঘটনা ঘটলেও মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ব্যতিক্রমী। এতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং উপকূলীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর আঙুলের ছাপ, ডিএনএ নমুনা এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য এবং সীমান্ত ও সমুদ্রপথে সাম্প্রতিক কোনো দুর্ঘটনার তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিনে সাগরের স্রোত ও জোয়ারের প্রকৃতিতে পরিবর্তন দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে একের পর এক মরদেহ ভেসে আসার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন

১১ জুলাই ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন

ইংল্যান্ডের ম্যাচসহ টিভিতে  যা দেখবেন আজ

ইংল্যান্ডের ম্যাচসহ টিভিতে যা দেখবেন আজ

কক্সবাজার উপকূলে ২ দিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজার উপকূলে ২ দিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার

দুপুর ১ টার মধ্যে ১৬ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

দুপুর ১ টার মধ্যে ১৬ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App