হলান্ড-কেইনের লড়াইয়ে সেমির টিকেট কার?
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। তবে ম্যাচটি শুধু দুটি দলের লড়াই নয়, বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন ও আর্লিং হলান্ডের ব্যক্তিগত দ্বৈরথও। একজন অভিজ্ঞ, পরিপূর্ণ ও বহুমাত্রিক গোলদাতা; অন্যজন বিস্ফোরক, শক্তিশালী ও বক্সের ভেতরে প্রায় অপ্রতিরোধ্য। তাই সেমিফাইনালের টিকেটের পাশাপাশি আলোচনায় থাকবে- বর্তমান সময়ের সেরা ‘নম্বর নাইন’ কে, সেই প্রশ্নও।
১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার হাতছানি নরওয়ের সামনে। তাই দুই দলের কাছেই ম্যাচটির গুরুত্ব সমান। একদিকে ঐতিহ্য, অন্যদিকে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্য কেইন ও হলান্ড। আধুনিক ফুটবলের দুই সেরা স্ট্রাইকারের মধ্যে তুলনা নতুন নয়। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো এত বড় মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তারা।
হলান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি তার শারীরিক সক্ষমতা, গতি ও বক্সের ভেতরে নিখুঁত ফিনিশিং। মাত্র একটি সুযোগ পেলেও ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন তিনি। শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে একাই দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও শক্ত অবস্থানে আছেন নরওয়েজিয়ান এই তারকা।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন কেবল একজন গোলদাতা নন, দলের আক্রমণের মূল স্থপতিও। মাঝমাঠে নেমে খেলা তৈরি করা, সতীর্থদের সুযোগ করে দেয়া, দূরপাল্লার শট কিংবা হেড- সব ক্ষেত্রেই সমান কার্যকর তিনি। প্রথাগত ‘নম্বর নাইন’ হয়েও প্লে-মেকারের ভূমিকায় নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন কেইন। তাই শুধু গোল নয়, পুরো ম্যাচের ছন্দ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
দুই স্ট্রাইকারের খেলার ধরনে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। হলান্ড অপেক্ষা করেন সুযোগের জন্য। খুব বেশি বল স্পর্শ না করলেও বক্সের ভেতরে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে কেইন পুরো মাঠজুড়ে সক্রিয় থাকেন। আক্রমণ গড়ে তোলা থেকে গোল করা- সব ক্ষেত্রেই রাখেন সমান অবদান। ফলে এই ম্যাচে কার প্রভাব বেশি থাকবে, সেটিই হতে পারে ফল নির্ধারণের অন্যতম বড় নিয়ামক।
তবে ম্যাচটি কেবল হলান্ড বনাম কেইনের লড়াই নয়। নরওয়ের মাঝমাঠে আছেন মার্টিন ওদেগার্ড, আলেকসান্ডার সর্লথ, ইয়োরগেন স্ট্রান্ড লারসেন, সান্ডার বের্গ ও অস্কার ববের মতো ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা ফুটবলাররা। নরওয়ের সাবেক মিডফিল্ডার মর্টেন গামস্ত পেডারসেনও মনে করেন, নরওয়ে শুধু হলান্ডনির্ভর দল নয়; বরং ঐক্যবদ্ধ দল হিসেবেই তারা সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ভরসা শুধু কেইন নন। জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকা, ফিল ফোডেন ও ডেকলান রাইসের মতো তারকারা যে কোনো সময় ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়ার সামর্থ্য রাখেন। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। শেষ ষোলোতে লাল কার্ড দেখায় ডিফেন্ডার জ্যারেল কুয়ান্সাকে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফা। ফলে রক্ষণভাগে নতুন সমীকরণ নিয়েই মাঠে নামতে হবে টমাস টুখেলের দলকে।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। মেক্সিকোর বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয় দেখার পর তার বিশ্বাস, এবার বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ্য আছে ইংল্যান্ডের। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি হতে যাচ্ছে নরওয়ে।
পরিসংখ্যান, অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াডের গভীরতায় এগিয়ে ইংল্যান্ড। কিন্তু আত্মবিশ্বাস, গতি ও আক্রমণভাগের ধার বিবেচনায় নরওয়েকেও হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে হলান্ডের মতো একজন স্ট্রাইকার দলে থাকলে প্রতিপক্ষের সামান্য ভুলও বড় শাস্তি ডেকে আনতে পারে। মায়ামির এই লড়াইয়ে তাই সবার চোখ থাকবে দুই নম্বর নাইন- হ্যারি কেইন ও আর্লিং হলান্ডের দিকে। একজনের অভিজ্ঞতা, অন্যজনের বিস্ফোরণক্ষমতা। একজন খেলেন দলের ছন্দ গড়ে, অন্যজন মুহূর্তেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন। শেষ পর্যন্ত কার হাসি ফুটবে, কেইন নাকি হলান্ড- সেই উত্তর মিলবে রবিবার রাতের প্রথম প্রহরে। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হয়ে উঠতে যাচ্ছে এই মহারণ।
