কুখ্যাত এপস্টিনের ‘পুরুষ ক্লাবে’ নারীদের কীভাবে দেখা হতো
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
জেফরি এপস্টিন ও তাঁর সাবেক প্রেমিকা গিলেন ম্যাক্সওয়েল। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন বিচার বিভাগ কুখ্যাত শিশু যৌন নিপীড়নকারী জেফরি এপস্টিনের লাখ লাখ ই–মেইল প্রকাশ করেছে। এসব নথি থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে একটি ই–মেইল নির্বাচন করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির এক শনিবার সন্ধ্যায় লেখা ওই ই–মেইলে জেফরি এপস্টিন তাঁর আয়োজন করা একটি ডিনারের সম্ভাব্য অতিথি তালিকা মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সহকারীকে পাঠান। ই–মেইলের শুরুতে তিনি লেখেন, “বিলের জন্য যাঁরা।”
সম্ভাব্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, চলচ্চিত্র পরিচালক উডি অ্যালেন, কাতারের প্রধানমন্ত্রী, হার্ভার্ডের দুই শিক্ষাবিদ, হায়াৎ হোটেলের সিইও, হোয়াইট হাউসের এক যোগাযোগ পরিচালক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ আরো কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।
১০ জন পুরুষের নাম উল্লেখ করার পর এপস্টিন অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথওয়ের নাম লিখে ব্র্যাকেটে “সত্যিই” শব্দটি যোগ করেন। এতে বোঝা যায়, এমন ক্ষমতাবান পুরুষদের আড্ডায় কোনো নারীর উপস্থিতি অস্বাভাবিক বলে বিবেচিত হতো। তালিকার শেষে তিনি “ভিক্টোরিয়া সিক্রেট মডেলরা?” লিখে মন্তব্য করেন এবং বিল গেটস কার সঙ্গে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন, সেটিও জানতে চান।
প্রকাশিত নথিতে এমন এক জগতের চিত্র উঠে এসেছে যেখানে ধনসম্পদ ও ক্ষমতার কেন্দ্রে পুরুষেরা অবস্থান করেন এবং নারীরা প্রান্তিক হয়ে থাকেন। এসব ই–মেইলে দেখা যায়, প্রভাবশালী পুরুষদের মধ্যে যোগাযোগ, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং ব্যক্তিগত আলাপচারিতার ধরন কেমন ছিল। অনেক ক্ষেত্রে নারীদের শুধু সহকারী, বিনোদনসঙ্গী বা যৌনসঙ্গী হিসেবে দেখা হয়েছে।
নথিতে দেখা যায়, এপস্টিন নারীদের শারীরিক গঠন, চিকিৎসা বা সৌন্দর্যবিষয়ক পরিবর্তন নিয়ে নির্দেশনা দিতেন। তাঁর নির্বাহী সহকারী লেসলি গ্রফ অতিথিদের সময়সূচি, খাবারের আয়োজন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন।
আরো পড়ুন : এপস্টিন অধ্যায় ছেড়ে আমেরিকার এগিয়ে যাওয়া উচিত: ট্রাম্প
২০১২ সালে ল্যারি সামার্সের সঙ্গে বৈঠকের আগে গ্রফ তাঁর টিমকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। একইভাবে অন্যান্য ধনী ব্যক্তিদের সহকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে তাঁদের বসদের পছন্দ–অপছন্দ সম্পর্কে তথ্য আদান–প্রদান করা হতো।
এপস্টিন–সংক্রান্ত তদন্তে গ্রফও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন। তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর উপস্থিতিতে কোনো বেআইনি ঘটনা ঘটেনি।
নথিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েমের সঙ্গে এপস্টিনের বার্তালাপও রয়েছে, যেখানে নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। সুলতান আহমেদ ‘ডিপিওয়ার্ল্ড’-এর চেয়ারম্যান, যে প্রতিষ্ঠানকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার, যদিও পরে জানানো হয় তাদের মেয়াদে এই চুক্তি হচ্ছে না।
প্রকাশিত বার্তাগুলোতে নারীদের নিয়ে অশ্লীল ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথোপকথনের উদাহরণও পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে এপস্টিন নারীদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছেন এবং তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও নির্দেশনা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল তথ্যভান্ডার ক্ষমতাবান পুরুষদের নেটওয়ার্ক, পারস্পরিক প্রভাব এবং পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এসব নথি দেখায়, ক্ষমতার এই পরিমণ্ডলে নারীরা কীভাবে প্রান্তিক অবস্থানে ছিলেন।
