ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ছেন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
তুলসি গ্যাবার্ড। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তুলসি গ্যাবার্ড। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কোণঠাসা হয়ে পড়ার পরই তার এই বিদায়ের ঘোষণা এলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে গ্যাবার্ড জানিয়েছেন, আগামী ৩০ জুন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন। চিঠিতে তিনি বলেন, আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি, তবে এখনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসই গ্যাবার্ডকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। যদিও ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, তার স্বামীর ক্যানসার ধরা পড়ায় তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত মাসে ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছে গ্যাবার্ডকে সরিয়ে দেওয়া উচিত কি না, সে বিষয়ে মতামতও জানতে চেয়েছিলেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
শুক্রবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, চমৎকার কাজ করার পরও তুলসি গ্যাবার্ড ৩০ জুন প্রশাসন ছাড়বেন।তিনি বলেন, গ্যাবার্ড অসাধারণ কাজ করেছেন, আমরা তাকে মিস করব। একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের দায়িত্বে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ করবেন সংস্থাটির প্রধান উপপরিচালক আরন লুকাস।
গত জুনেই গ্যাবার্ডকে প্রশাসনের ভেতরে অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় দেখা যায়। তখন ট্রাম্প ইসরায়েলের ইরানে হামলার সিদ্ধান্তকে সমর্থন দেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
এ সিদ্ধান্ত গ্যাবার্ডের আগের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি বলেছিলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। পরে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, তিনি গ্যাবার্ডের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেন না এবং তার মূল্যায়ন ভুল ছিল।
এরপর ট্রাম্পের আস্থা ফেরাতে গ্যাবার্ড প্রকাশ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং তার প্রশাসনের কয়েকজন জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, তারা ট্রাম্পের পক্ষে ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
আরো পড়ুন : ইরান যুদ্ধের মধ্যে ছেলের বিয়েতে যাওয়া নিয়ে দোটানায় ট্রাম্প
ওবামা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক অবস্থানকে সন্তুষ্ট করতেই গ্যাবার্ড এমন বক্তব্য দেন। চলতি বছরও বিতর্কের জন্ম দেন গ্যাবার্ড। ২০২০ সালের নির্বাচনের ব্যালট জব্দ করতে এফবিআই অভিযানে গেলে সেখানে তার উপস্থিতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়। কারণ বিষয়টি তার গোয়েন্দা দায়িত্বের বাইরে ছিল।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে জানুয়ারির অভিযানে কিংবা ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্তে তাকে কার্যত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়।
সমালোচকদের মতে, এসব ঘটনা প্রমাণ করেছে যে ১৮টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে গ্যাবার্ডের যোগ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন ছিল, তা অমূলক ছিল না।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ের পর গ্যাবার্ডের মনোনয়নও বিতর্ক তৈরি করেছিল। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার অবস্থানের প্রতি সহানুভূতিশীল বক্তব্য এবং ২০১৭ সালে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সিরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু নয় বলায় তার সমালোচনা হয়েছিল।
এর আগে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন অভিযোগ করেছিলেন, গ্যাবার্ডকে রাশিয়া তৈরি করছে। মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নার গ্যাবার্ড ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, তার উত্তরসূরি যেন গোয়েন্দা দপ্তরকে “তথ্য, স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে” পরিচালনা করেন।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম শিফ বলেন, গ্যাবার্ডের পদত্যাগই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তার সবচেয়ে ইতিবাচক অবদান। তিনি অভিযোগ করেন, গ্যাবার্ড গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন এবং ভিত্তিহীন নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এনেছেন।
গ্যাবার্ড হচ্ছেন গত দুই মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়তে যাওয়া চতুর্থ নারী কর্মকর্তা। এর আগে মার্চে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোয়েম, এপ্রিলে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এবং শ্রমমন্ত্রী লরি শাভেজ-ডেরেমার প্রশাসন ছাড়েন।
তবে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয় এক বিবৃতিতে গ্যাবার্ডের প্রশংসা করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র অলিভিয়া কোলম্যান বলেন, তুলসি গ্যাবার্ডের নেতৃত্বে গত ১৫ মাস তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ এর জন্য খারাপ সময় ছিল।
তিনি দাবি করেন, গ্যাবার্ড নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল, গোয়েন্দা কাঠামো পুনর্গঠন এবং জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ড, রবার্ট এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ড ও মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশের মতো পদক্ষেপ নিয়েছেন।
