মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম মারা গেছেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম মারা গেছেন। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় আকস্মিক অসুস্থতায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তার কার্যালয় নিশ্চিত করেছে।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান এই নেতার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সিনেটর গ্রাহামের পরিবার সবার প্রার্থনা কামনা করছে এবং তাদের পারিবারিক গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
লিন্ডসে গ্রাহাম ২০০২ সালে প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হন। গত নির্বাচনে তিনি পঞ্চম বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র লিন্ডসে গ্রাহাম। ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া যুদ্ধবাজ নেতা হিসেবে পরিচিত তিনি। এর আগে ১৯৯৯০-এর দশকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য থাকাকালীন তিনি ইরানকে বিশ্ব থেকে আলাদা হিসেবে চিহ্নিত করতে এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার নীতিগুলোকে জোরালো সমর্থন দিয়েছিলেন।
গত বছরও ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে তিনি জোর সমর্থন জানান। এছাড়া চলতি বছরের ফব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া দুই দেশের সর্বশেষ সংঘাতেরও একজন বড় সমর্থক ছিলেন তিনি।
এদিকে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য গোপন রাখার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে নিউ জার্সির রিপাবলিকান প্রতিনিধি টম কিন জুনিয়র কোনো কারণ ছাড়াই কয়েক মাস কংগ্রেস থেকে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি ফিরে এসে জানান, তিনি বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। একইভাবে কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেলকেও কয়েক সপ্তাহ আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, তবে তার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কারণও প্রকাশ করা হয়নি।
কট্টর পররাষ্ট্রনীতির জন্য পরিচিত লিন্ডসে গ্রাহাম ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট পদের মনোনয়নের জন্য সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ে নেমেছিলেন। ওই সময় দলের চূড়ান্ত প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন তীব্র সমালোচক ছিলেন তিনি। তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর গ্রাহাম তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হন। তিনি নিয়মিত ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতেন এবং গলফ কোর্সেও প্রেসিডেন্টের পাশে তার নিয়মিত উপস্থিতি দেখা যেত।
বিশেষ করে ইরান ও রাশিয়ার মতো জটিল পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তিনি প্রেসিডেন্টকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিতেন। মৃত্যুর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ গত শুক্রবারও রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ কার্যকর করতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন এই সিনেটর।
