'ফিফা আমাদের জেতায়' -এই কথা ৪০ বছর ধরে শুনে আসছি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আর্জেন্টিনা ভালো খেললেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ফুটবল আড্ডায় একটি অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায় -ফিফা নাকি দলটিকে বাড়তি সুবিধা দেয়। বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের অনেক সমর্থক এই অভিযোগ তুলে থাকেন।
এবার সেই বিতর্ক নিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এমন অভিযোগ নতুন কিছু নয়; প্রায় চার দশক ধরেই একই ধরনের কথা শুনে আসছেন। এ তথ্য প্রকাশ করেছে বেইন স্পোর্টস।
স্কালোনি স্মরণ করিয়ে দেন ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কথা। ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের পরও আর্জেন্টিনাকে নিয়ে একই ধরনের বিতর্ক হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আর্জেন্টিনা বরাবরই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল, আর সফল দলকে ঘিরে এমন অভিযোগ ও সমালোচনা নতুন নয়।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই আর্জেন্টিনার সাফল্য দেখতে চান না। তাই দলকে নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। তবে এসব সমালোচনা মাথায় না রেখে খেলাতেই মনোযোগ দিতে চান তারা।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হারের পর থেকে আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। টানা ১১টি ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপেও অপরাজিত অবস্থান বজায় রেখেছে দলটি।
অন্যদিকে ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। গত বিশ্বকাপে ৭ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করা এই তারকা এবার ইতোমধ্যে ৮ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট করেছেন। পাশাপাশি নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন আরও কয়েকটি নতুন রেকর্ড।
স্কালোনির মতে, বাইরের সমালোচনা ও বিতর্ক খেলোয়াড়দের আরও অনুপ্রাণিত করে। এসবই দলের মধ্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস ও লড়াইয়ের মানসিকতা তৈরি করে।
তবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথ মোটেও সহজ ছিল না আর্জেন্টিনার। শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দে এবং শেষ ১৬-এ মিসর—দুই ম্যাচই তারা ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে। বিশেষ করে ৭ জুলাই আটলান্টায় মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল দলটি। শেষ মুহূর্তের দারুণ প্রত্যাবর্তনে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।
ওই ম্যাচের পর মিসর শিবির রেফারিং নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলে এবং আর্জেন্টিনা পক্ষপাতমূলক সুবিধা পেয়েছে বলে অভিযোগ করে। তবে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইগি কলিনা পরে জানান, ম্যাচের সব সিদ্ধান্তই নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে।
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে রেফারিদের মাধ্যমে কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন স্কালোনি। তাঁর মতে, অসংখ্য ক্যামেরা ও প্রযুক্তিগত নজরদারির মধ্যে এমন কিছু গোপন রাখা সম্ভব নয় এবং নিয়ম সবার জন্য সমান।
এদিকে বিতর্ক মাঠ ছাড়িয়ে পৌঁছেছে সাইবার জগতেও। মিসর ম্যাচে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান এবং ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো।
পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘লা ক্যালে’ জানায়, মিসরীয় হ্যাকাররা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে বিভিন্ন ইমেইল পাঠিয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বিতর্কিত রেফারিংয়ের কারণে মিসরের নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হয়েছে।
মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এই বিতর্কও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সব আলোচনার জবাব দিতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
