‘প্রবৃদ্ধি নয়, সময় এখন করোনা সামাল দেওয়ার’
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬:০০ পিএম
বছর শেষে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কত হবে, মহামারির মধ্যে এটি আলোচনার সময় নয়। এখন সময় হচ্ছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দেয়ার। এখন বড় প্রকল্পে নজর দেওয়ার সময় নয়। এখন নজর দেয়া উচিত কর্মসংস্থানের ওপর। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরার সময় এসব কথা বলেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) ভার্চ্যুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সিপিডি বলেছে, সরকার ৩৫ লাখ পরিবারকে যে পরিমাণ নগদ সহায়তা দিচ্ছে, সেটি আরও বাড়ানো উচিত। একই সঙ্গে সংকটকালে ধনীদের কাছ থেকে সম্পদ সংগ্রহে জোর দিয়েছে সিপিডি। আগামী বাজেট কেমন হওয়া উচিত, সেটির ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। আর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
সিপিডির রিসার্চ ফেলো তৌফিক ইসলাম খান সুপারিশমালা উপস্থাপনায় বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম বিষয়টি হলো, আগামী বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করব, তা যেন অবাস্তব না হয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কতটুকু সম্পদ কর ও কর বহির্ভূত উৎস থেকে সংগ্রহ করতে পারব তা নির্ধারণ করা। এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকলে বাজেটে অর্থসংস্থান করা সহজ হবে। অন্যদিকে কিভাবে ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে সহজে উত্তরণ মিলবে, তার যেন সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, কোভিডকালে কোনো কোনো সেক্টরে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কর সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। করের সুবিধা একবার দিয়ে ফেললাম দেখে সারাজীবন দিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আমাদের প্রচুর কর আদায় হওয়ার কথা থাকলেও আমরা পাই না। এ জায়গায় আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে। দুর্নীতি রোধ করে এ জায়গায় মনোযোগ দেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ধনীদের কাছ থেকে কর হার বৃদ্ধির প্রস্তাবনায় তৌফিক বলেন, গত অর্থবছরের কর কাঠামোতে করের সর্বোচ্চ হার যে ৩০ শতাংশ ছিল, সেখান থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। আমরা মনে করি বর্তমান পরিস্থিতি ও সামষ্টিক অর্থনীতির বিবেচনায় এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমরা মনে করি ধনীদের ওপর করের হার আবার ৩০ শতাংশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা উচিত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশ ধনীদের কাছ থেকে কর আহরণ হার বাড়িয়েছে। বর্তমান সংকটকালে আমরা যদি সম্পদশালীদের কাছ সম্পদ সংগ্রহ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের মাঝে সুষম বণ্টন করতে না পারি, তাহলে তা কর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে না। এছাড়া ব্যবসার ক্ষেত্রে কোভিডকালে যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা যেন আগামীতে অব্যাহত থাকে।
