ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে ‘বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ১০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে দেশটিতে। ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় পার্শ্ববর্তী দেশ উগান্ডায়ও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ‘বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা অনুযায়ী এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা।
ডব্লিউএইচও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে গত শনিবার পর্যন্ত অন্তত ৮০ জনের ইবোলায় সন্দেহজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সেখানে এখন পর্যন্ত পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া আটটি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৬ জন।
সংস্থাটি বলেছে, বুনদিবুগিও ধরনের ভাইরাসের কারণে এ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ ধরনের ভাইরাসের জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা নেই। তবে ডব্লিউএইচও সতর্ক করে জানিয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতি রিপোর্টকৃত সংখ্যার চেয়েও বেশি খারাপ হতে পারে এবং আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে কঙ্গোর সঙ্গে স্থলসীমান্ত থাকা দেশগুলো উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইতুরি প্রদেশের অন্তত তিনটি অঞ্চলে—বুনিয়া, রামওয়ারা ও মংগবালুতে—সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী উগান্ডায়ও ভাইরাসটির বিস্তার ঘটেছে। রোগটির প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা। পরে বমি, ডায়রিয়া, শরীরে ফুসকুড়ি ও রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
১৯৭৬ সালে কঙ্গোতে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হওয়ার পর এটি দেশটিতে ১৭তম প্রাদুর্ভাব। অতীতে বেশিরভাগ প্রাদুর্ভাব জায়ার ধরনের ভাইরাসের কারণে হয়েছিল, যার জন্য চিকিৎসা ও টিকা রয়েছে। কিন্তু এবারের বুনদিবুগিও ধরনের ভাইরাসের ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা বা টিকা না থাকায় পরিস্থিতি ‘অস্বাভাবিক’ ও উদ্বেগজনক বলে বিবেচিত হচ্ছে।
আরো পড়ুন : কঙ্গোতে ইবোলার প্রকোপে ৬৫ জনের মৃত্যু
এরই মধ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কিছু ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ডব্লিউএইচও আশঙ্কা করছে, বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে, কারণ প্রতিদিন নতুন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং সংক্রমণের হারও বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে সংস্থাটি বিভিন্ন দেশকে জাতীয় জরুরি ব্যবস্থা সক্রিয় করা, সীমান্ত এলাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা এবং অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা ভাইরাসটি প্রথমে বাদুড় থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছিল। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, লালা ও ঘামের মতো শারীরিক তরলের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত হওয়ার পর উপসর্গ প্রকাশ পেতে ২১ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মৃত্যুর হার অতীতে ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে।
ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা প্রযুক্তির উন্নতি সত্ত্বেও আফ্রিকায় এখন পর্যন্ত ইবোলায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের আগস্টেও কঙ্গোর মধ্যাঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল।
