৫০ বছর পর বিদেশিদের ভিসা ফি বাড়াল জাপান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিদেশি নাগরিকদের জন্য আগামী মাস থেকে ভিসা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এটিই প্রথমবারের মতো ভিসা ফি বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার মন্ত্রিসভা এ পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে এবং ১ জুলাই বা তার পর জমা দেওয়া ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন ফি কার্যকর হবে।
নতুন ফি কাঠামো অনুযায়ী, একবার প্রবেশের (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসার খরচ ৩ হাজার জাপানি ইয়েন থেকে বেড়ে ১৫ হাজার জাপানি ইয়েন করা হয়েছে। একইভাবে, একাধিকবার প্রবেশের (মাল্টিপল-এন্ট্রি) ভিসার খরচ ৬ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার ইয়েন নির্ধারণ করা হয়েছে। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্টের।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, বর্তমান ভিসা ফি ১৯৭৮ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হার পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সম্প্রতি এ ফি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরো পড়ুন : তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জাপানের বড় জয়
তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয় সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদেশি পর্যটকের আগমনে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়বে না।
গত মাসে দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদিত একটি আইনের পরিপ্রেক্ষিতে এই ফি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ওই আইন সরকারের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার ফি বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও সেবা পরিচালনার ব্যয়ও বেড়েছে। অতিরিক্ত রাজস্ব সেই ব্যয় মেটাতে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে ‘দ্য জাপান টাইমস’।
বৃহত্তর সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফি-র সর্বোচ্চ সীমাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। পাশাপাশি স্থায়ী আবাসনের আবেদন ফি-র সর্বোচ্চ সীমা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।
সরকার আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন ও অবস্থানের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন ফি আবেদনের ধরন অনুযায়ী ১০ হাজার থেকে ৭০ হাজার জাপানি ইয়েন নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, স্থায়ী আবাসনের আবেদন ফি ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ইয়েন পর্যন্ত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘নিপ্পন’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরের আগেই সরকার এসব পরিবর্তন পুরোপুরি কার্যকর করতে চায়।
কর্মকর্তাদের মতে, অতিরিক্ত তহবিল অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া আরো কার্যকরভাবে পরিচালনা, জাপানি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও ব্যবস্থা জোরদারে ব্যবহার করা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে।
সরকার আরো জানিয়েছে, সংশোধিত ফি কাঠামোর মাধ্যমে জাপানের অভিবাসন-সংক্রান্ত ফি অন্যান্য উন্নত দেশের সঙ্গে আরো সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। কারণ, অনেক উন্নত অর্থনীতির দেশে ভিসা ও আবাসন-সংক্রান্ত আবেদন ফি জাপানের তুলনায় অনেক বেশি।
