ঘরে বসেই যেভাবে জানবেন এসএসসির রেজাল্ট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ (সোমবার) সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে ফলাফল জানতে পারবেন।
এসএমএসে যেভাবে ফল জানা যাবে
মুঠোফোনের যেকোনো অপারেটরের সিম ব্যবহার করে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানা যাবে। এজন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC লিখে স্পেস দিয়ে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর রোল নম্বর এবং সর্বশেষ পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
আরো পড়ুন: আজ প্রকাশ হচ্ছে এসএসসির ফলাফল
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রে এসএমএসের ফরম্যাট হবে: SSC DHA ROLL YEAR।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার্থীদের লিখতে হবে: SSC MAD ROLL YEAR। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীদের জন্য ফরম্যাট হবে: SSC TEC ROLL YEAR। সব ক্ষেত্রেই এসএমএস পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।
প্রতি এসএমএসের জন্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা খরচ হবে। নির্ধারিত এই ফির মধ্যে প্রযোজ্য সব ধরনের কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের ফল
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ পর প্রকাশ করা হচ্ছে। গত ২১ এপ্রিল সারাদেশে এ পরীক্ষা শুরু হয়। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা। সে হিসাবে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফল ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণে এবার নির্ধারিত সময়ের পর ফল প্রকাশ করা হচ্ছে।
পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন।
এ ছাড়া মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে।
এবার পাসের হার কত হতে পারে?
গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত ১৫ বছরের মধ্যে এটিই ছিল সর্বনিম্ন পাসের হার। এর আগে ২০০৯ সালে এ পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৪১ শতাংশ।
এবারও পাসের হার কোন পর্যায়ে থাকবে, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
মঙ্গলবার থেকে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন
প্রকাশিত ফলে কোনো শিক্ষার্থী সন্তুষ্ট না হলে মঙ্গলবার থেকে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ জন্য অনলাইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর আবেদনকারীর দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে তা জানানো হবে।
আবেদনের সময় শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখতে পারবেন। এক বা একাধিক বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি দিতে হবে। দ্বিপত্রবিশিষ্ট কোনো বিষয়ে আবেদন করলে উভয় পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে।
ফি পরিশোধ করা যাবে বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবা ব্যবহার করে। টাকা জমা দেওয়ার পর আবেদন পোর্টালে ফিরে গিয়ে আবেদন চূড়ান্তভাবে জমা দিতে হবে।
তবে একবার কোনো বিষয়ের ফি পরিশোধ করে আবেদন জমা দিলে সেটি আর বাতিল করা যাবে না এবং পরিশোধ করা ফিও ফেরতযোগ্য নয়। শিক্ষা বোর্ডগুলো সরাসরি বা হাতে হাতে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করবে না।
এসএসসির ফলের ভিত্তিতেই একাদশে ভর্তি
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হবে। আগের বছরগুলোর মতো এবারও অধিকাংশ কলেজ ও মাদ্রাসায় কেন্দ্রীয় অনলাইন প্রক্রিয়ায় ভর্তি নেওয়া হবে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাওয়া ফল, নম্বর এবং শিক্ষার্থীর পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তির জন্য প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে চলতি বছরের একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালার খসড়া তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে প্রস্তাব পাঠিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। তবে রোববার রাত পর্যন্ত চূড়ান্ত ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করা হয়নি।
নীতিমালা প্রকাশের পর আবেদন গ্রহণ ও ফল প্রকাশের সময়সূচিসহ ভর্তি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
অন্যদিকে, নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজসহ কয়েকটি চার্চ পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পৃথক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।
দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ২৬ লাখের বেশি আসন রয়েছে। বিপরীতে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২০ হাজারের বেশি। ফলে ভর্তির পরও একাদশ শ্রেণিতে প্রায় পৌনে ৮ লাখ আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
