চীনে ঘুষ নেয়ার দায়ে সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থপাচার ও আত্মসাতের দায়ে চীনের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াং ইউলিন চাকরিজীবনের প্রায় ৩০ বছরে ২২০ কোটি ইউয়ানের বেশি ঘুষ নিয়েছেন বলে আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়াং ইউলিন ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নানজিং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি প্রকৌশল প্রকল্পের চুক্তি, জমি হস্তান্তর এবং অর্থায়নের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গ্রহণ করেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৬৯ বছর বয়সী ইয়াং ইউলিনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের পাশাপাশি আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চাংঝৌ শহরের একটি আদালত জানিয়েছে, ইয়াংয়ের অপরাধ রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়েছে। যদিও তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেছেন এবং আদালতে দোষ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন, তবুও তাঁর অপরাধের মাত্রা এতটাই গুরুতর যে শাস্তি কমানোর সুযোগ নেই বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে।
প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ইয়াং ইউলিনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এই অভিযানে সামরিক বাহিনী, আর্থিক খাত এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে সমালোচকদের দাবি, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বল করতেও এ অভিযান ব্যবহার করা হয়েছে।
চীনে আর্থিক বা তথাকথিত ‘হোয়াইট-কলার’ অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের নজির খুব বেশি না থাকলেও, বিপুল অঙ্কের অর্থ জড়িত থাকলে আদালত এ ধরনের কঠোর শাস্তি দিয়ে থাকে।
এর আগে ২০২১ সালে সাবেক আর্থিক খাতের কর্মকর্তা লাই শিয়াওমিনকে প্রায় ১৮০ কোটি ইউয়ান ঘুষ নেওয়ার দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এছাড়া ২০২৪ সালে ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক কর্মকর্তা লি জিয়ানপিংকে ৩০০ কোটির বেশি ইউয়ান আত্মসাৎ ও ঘুষ নেওয়ার দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
