২ বছর ধরে ব্রিজ ভেঙে খালে, ঝুঁকিতে পারাপার
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটার বড়হরপাড়া খালের ওপর নির্মিত আয়রণ সেতু ভেঙে পড়ে আছে প্রায় দুই বছর ধরে। নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় অস্থায়ী কাঠের সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের মম্বিপাড়া ও পৌরগোজা গ্রামের মাঝখানে ২০০৫ সালে নির্মিত এই সেতুটি ‘সাধুর ব্রিজ’ নামে পরিচিত ছিল। ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি পিকআপ ভ্যানসহ হঠাৎ সেতুটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার পর চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের উদ্যোগে প্রায় ৮ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়।
তবে সময়ের ব্যবধানে কাঠের সেতুটিও এখন নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার মানুষ, যার মধ্যে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আসা পর্যটকরাও এই পথ ব্যবহার করছেন। বিকল্প রাস্তা না থাকায় তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
আরো পড়ুন : বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে বাস খাদে পড়ে নারী নিহত
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, এই কাঠের সেতু দিয়ে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মুসুল্লীয়াবাদ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্র রফিকুল ইসলামও দ্রুত একটি টেকসই নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
এদিকে, ভেঙে পড়া আয়রণ সেতুর ধ্বংসাবশেষ এখনও অপসারণ করা হয়নি এবং তা নতুন সেতু নির্মাণেও বাধা হয়ে রয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে আধুনিক ও নিরাপদ সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, দুই বছর ধরে সেতুর ধ্বংসাবশেষ খালে পড়ে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতারই প্রমাণ।
লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে অবগত করা হয়েছে এবং তারা নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জমান বলেন, নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
