কলাপাড়ায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
পটুয়াখালীর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমানের কার্যকলাপে অফিসের কর্মচারী ও উপজেলাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ উপজেলাবাসী। রয়েছে ভৌতিক বিলসহ অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ। এছাড়া, সরকারি নিয়মানুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিস চলার কথা থাকলেও তার স্বেচ্ছাচারিতায় রাত ১০টা পর্যন্ত চলছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। এতে অফিসের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত অফিস চলায় বিশেষ বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে মহিলা কর্মচারীদের। যেকোনো সময় এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পথে নামতে পারেন অফিসের কর্মচারী ও ভুক্তভোগী গ্রাহকরা—এমন গুঞ্জনই উঠেছে উপজেলার সর্বত্র।
জানা যায়, পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের নতুন ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি যোগদান করেন। এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। অন্যান্য সময়ের তুলনায় গত জুন মাসে লোডশেডিংয়ের কারণে উপজেলাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রয়েছে ভৌতিক বিলসহ অতিরিক্ত বিলের একাধিক অভিযোগ। পুরো মাসে এক ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও অফিসে বসেই ভৌতিক বিল তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত বিলের বোঝা টানতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক গ্রাহক। দ্রুত প্রতিকার না হলে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ রাজপথে হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
এছাড়া, সরকারি নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো অফিস পরিচালনা করায় কর্মচারীদের মধ্যেও বিরাজ করছে নীরব ক্ষোভ। বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিস চলার কথা থাকলেও খামখেয়ালিভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত অফিসে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে কর্মচারীদের। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মহিলা কর্মচারীরা পড়ছেন চরম বেকায়দায়। অধিক রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রেখে অনিয়মের কোনো কার্যক্রম চলছে কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছে জনমনে।
গোপন সূত্রে জানা যায়, নতুন ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান কলাপাড়া জোনাল অফিসে যোগদানের আগে বরগুনা সদর অফিসে ডিজিএম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে ওই অফিসের কর্মচারীরাও বিদ্রোহ করেছিলেন। কর্মচারীরা তাকে মারধরও করেছিলেন বলে জানা যায়। এখন কলাপাড়া জোনাল অফিসে যোগদানের পরও তার আগের কার্যকলাপ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এখানেও যেকোনো সময় বড় ধরনের বিদ্রোহ হতে পারে বলে জানিয়েছেন অফিসের একাধিক কর্মচারী। তবে চাকরি হারানোর ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের একাধিক কর্মচারী বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে তারা এই অফিসে চাকরি করছেন। এর আগে যেসব ডিজিএম এসেছেন, তাদের কেউই এত রাত পর্যন্ত অফিস পরিচালনা করেননি। তাদের ভাষ্য, জুন ক্লোজিং আগেও হয়েছে, কিন্তু বর্তমান ডিজিএম স্বেচ্ছাচারীভাবে অফিস পরিচালনা করছেন। তারা দ্রুত এই ডিজিএমের বদলির দাবি জানান। অন্যথায় যেকোনো সময় বিক্ষোভে নামবেন বলেও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন।
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের গ্রাহক সোনিয়া আক্তার জানান, নতুন ঘরের কাজ চলায় তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেবরের বাসায় ছিলেন। এ কারণে গত মে মাসে তার বিদ্যুৎ মিটার সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। অথচ তার নামে ভৌতিক বিল করা হয়। পরে অফিসে যোগাযোগ করলে সমস্যার সমাধান হয়। তবে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ভৌতিক বিলের সমাধান করতে অফিসে যাতায়াতের যে খরচ হয়েছে, সেটি কি অফিস কর্তৃপক্ষ বহন করবে? তিনি এ ধরনের হয়রানি থেকে মুক্তি চান।
অপর ভুক্তভোগী টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোবহান বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, আগে তার দোকানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসত। এখন প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা বিল আসে। অফিসে অভিযোগ করলেও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। তিনি এ ধরনের অতিরিক্ত বিলের হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এসব বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে লোকবল কম থাকায় ছোটখাটো ভুলত্রুটি হয়ে থাকে। তবে অভিযোগ পেলে তা সমাধান করা হয়। অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, গত মাসে ঈদ মৌসুমে বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি হওয়ায় অনেকের বিল বেড়েছে। এছাড়া জুন ক্লোজিংয়ের কারণে কর্মচারীরা নিজেদের ইচ্ছাতেই অধিক রাত পর্যন্ত অফিসে কাজ করছেন। তবে অধিক রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রাখা সরকারি নিয়মের পরিপন্থী বলেও তিনি স্বীকার করেন।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আবুল কাশেম বলেন, অতিরিক্ত কিংবা ভৌতিক বিলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া অধিক রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রাখার কোনো নিয়ম নেই। কারও কাজ বাকি থাকলে তা পরের দিন শেষ করতে হবে। এসব বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
