‘নকলের’ সুযোগ না পেয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভোলার চরফ্যাসনে এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা শেষে নকলের সুযোগ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের বাধা দিতে গিয়ে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, কয়েকজন শিক্ষক এবং পথচারী আহত হন। তবে কোনো পরীক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চরফ্যাসনের ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চরফ্যাসন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংবাদ লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত ছিল। ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমনা আফরোজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জানা গেছে, চরফ্যাসন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন শিক্ষার্থী ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে এইচএসসির আইসিটি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেন। নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা শুরু হয়। প্রশ্নপত্র বিতরণের পর ১০৪ নম্বর কক্ষের কিছু শিক্ষার্থী প্রশ্ন কমন না পাওয়ায় উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে সেই উত্তেজনা কেন্দ্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তবে কেন্দ্রসচিব, হল সুপারভাইজার এবং ইউএনওর প্রতিনিধির তত্ত্বাবধানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
কেন্দ্রসচিব ও ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, কেন্দ্রটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় ছিল এবং কঠোর নজরদারির মধ্যেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১০৪ নম্বর কক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এতে অসদুপায়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ ব্যাহত হওয়ায় পরীক্ষা শেষে একদল শিক্ষার্থী কলেজের বাইরে মিছিল করে পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে কলেজের প্রধান ফটকে হামলা চালায়।
তিনি আরো জানান, পরে হামলাকারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং অফিস কক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ইউএনওর প্রতিনিধি ও সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসাইন বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করায় অসদুপায়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না পেয়ে কিছু শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমনা আফরোজ বলেন, ঘটনার পরপরই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
