মসজিদে ঢুকে কলেজ শিক্ষকের ওপর হামলা, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
এইচ এম নাহিদ, ভোলা
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভোলার নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিনকে মনপুরার একটি মসজিদে ঢুকে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ন আহবায়ক মো. সেলিম ও তার ভাই মো. রুবেল সহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২০ জনকে আসামী করে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে শিকার করেছে মনপুরা থানার পুলিশ।
ঘটনাটি গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টায় মনপুরা উপজেলা মডেল মসজিদে এশার নামাজ শেষে হাদিসের তালিম চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টার সময় ভোলা শহরের পরানগঞ্জ বাজার সংলগ্ন নাজিউর রহমান কলেজের কম্পাউন্ডের সামনে শিক্ষার্থীরা হাইওয়ে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।
কর্মসূচিতে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামাতসহ সকল সামাজিক সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রমাসনকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ও সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষকবৃন্দ পুলিশের সহায়তায় উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও জনতাকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ভুক্তভোগী মো. মহিউদ্দিন মনপুরার মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের সাবেক প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ এবং বর্তমানে ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হামলার ব্যাপারে অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন জানান, এশার নামাজ শেষে তিনি মসজিদে বসে হাদিসের তালিম শুনছিলেন। এ সময় হঠাৎ মো. সেলিম ও তার ভাই মো. রুবেল দেশীয় লাঠি নিয়ে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় মুসল্লিরা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন বলে দাবি করেন তিনি।
অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন আরও অভিযোগ করে বলেন, মোঃ সেলিম আগে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে নিজেকে এমএলএসএস পদে অধিকারী দাবি করেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হলেও সেসব মামলায় সেলিম পরাজিত হন। পরবর্তীতে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগের পর সেলিমকে চাকরি থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি দেয়া হয় বলেও তিনি জানান। এসব ঘটনার জেরেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি অধ্যক্ষের। তিনি আরও জানান,আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।
মসজিদে উপস্থিত স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, এশার নামাজ শেষে তারা হাদিসের তালিম শুনছিলেন। হঠাৎ সেলিম ও রুবেল মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে অধ্যক্ষ মহিউদ্দিনকে মারধর শুরু করেন। তারা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. সেলিম ও মো. রুবেলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের উভয়ের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, উক্ত ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মসজিদে ঢুকে হামলার বিষয়ে সত্যতা যাচাই করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব বলেন, আহত অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন অভিযোগ দায়ের করলেই দোষীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
