দাবি রাশেদের
পদত্যাগের আগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় বসেছিলেন আসিফ মাহমুদ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের আগের রাতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এমন দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, বিএনপি আগ্রহ না দেখানোয় পরে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন আসিফ মাহমুদ। অতীত কর্মকাণ্ড ও দলটিতে যোগদানের বিষয়ে তাঁর অবস্থানের কারণে এনসিপিতে তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি মাহফুজ আলমও বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী ছিলেন। এ বিষয়ে তাঁরা তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে রাশেদ খাঁনের দাবি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা বিএনপির প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিক এমনটি দলটি চায়নি। ফলে বিএনপিতে সুযোগ না পেয়ে আসিফ মাহমুদ এনসিপিতে যোগ দেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, বিএনপিতে সুযোগ না পেয়ে মাহফুজ আলম দলটিতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন বলেও দাবি করেন রাশেদ।
এনসিপিতে আসিফ মাহমুদের অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তাঁর দাবি, গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকার কারণে দলটিতে আসিফ মাহমুদের অবস্থান আরও ওপরে থাকার কথা থাকলেও অতীতের বিতর্ক ও দলটিতে যোগদানের বিষয়ে দোদুল্যমানতার কারণে তিনি পিছিয়ে পড়েছেন।
নির্বাচনের আগে আসন সমঝোতা নিয়েও এনসিপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন রাশেদ খাঁন। তাঁর ভাষ্য, বেশি আসন পাওয়ার প্রত্যাশায় এনসিপির শীর্ষ নেতারা সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে বিএনপি চারটির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরে বেশি আসন ও নির্বাচনী খরচের প্রত্যাশায় এনসিপি জামায়াতের জোটে গেছে বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এনসিপির কর্মসূচিরও সমালোচনা করেন তিনি। রাশেদ খাঁনের মতে, বিএনপিকে চাপে রাখা বা রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের কৌশল হিসেবে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার প্রশংসা করেন রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ তোলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পরে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাশেদ খাঁনের এসব দাবির বিষয়ে আসিফ মাহমুদ, মাহফুজ আলম কিংবা এনসিপির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
